বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শনিবার বিকাল ৪টায় 'অমর একুশে বইমেলার' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বইমেলা প্রেরণার উৎসব। আমরা সারা বছর বসে থাকি,কখন গ্রন্থমেলা শুরু হবে। অনেক দিন ধরেই চিন্তা ছিল কীভাবে মেলার স্থান সম্প্রসারিত করা যায়। গ্রন্থমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত সম্প্রসারণে প্রতিটি বাংলার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশ সফরে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেছিলেন ' উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র  রাষ্ট্রভাষা'। সেজন্য প্রতিবাদ করেছিল বাংলার ছাত্র সমাজ। পরবর্তীতে গড়ে উঠেছিল ভাষার জন্য অন্দোলন। এখানেই ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার মানুষের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পন করেছিল এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এজন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, ১৯৫৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে ২১ দফা দেয়া হয়। এই দফাগুলোর মধ্যে ১৬টি দফা ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দেয়ার জন্য।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৬ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করেন।
শহীদ মিনারের মূল নকশা অনুযায়ী তৈরি এবং এর জায়গা বৃদ্ধি করার আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবী থেকে অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। এসব ভাষা সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশে এই প্রথম করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউট।
বাংলা একাডেমি থেকে এখন সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়, একথা উল্লেখ এবার যারা সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তাদের অভিনন্দন প্রদান করেন।
বাংলা ভাষার সাহিত্যকে অন্য ভাষায় এবং অন্য ভাষার সাহিত্যকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করার অনুরোধ করেন তিনি। তিনি বলেন, অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করানো সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনা বলেন,মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আবারও সরকার গঠন করতে পেরেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যখন শুরু হয়েছে,ইনশাআল্লাহ সম্পন্ন করতে পারব। তিনি বলেন,যে জাতি ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে সে জাতি আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি। এ সময় তিনি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি আরো বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাথে রমনা বটমূলের যোগাযোগ ভালো করার জন্য ১৯৯৬ সালে ওভারপাস করা হয়েছিল। এখন বাংলা একাডেমির সাথে ওভারপাস করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলামা নাহিদকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দুর্গম স্থানে বই পাঠিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বই সহজলভ্য করার জন্য ই-বুক চালু করার চেষ্টা চলছে। এভাবেই সোনার বাংলা গড়া সম্ভব বলে জানান তিনি।
[b]ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) // কেএইচ[/b]