আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে সারা দুনিয়া মেনে নিয়েছে। অথচ নির্বাচনের পর মাত্র তিন মাসের মাথায় নতুন নির্বাচনের কথা বলছে বিএনপি ও টিআইবি নামের একটি এনজিও যা বোধগম্য নয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবির পক্ষ থেকে নতুন নির্বাচনের দাবির কড়া সমালোচনা করে নাসিম বলেন কার স্বার্থে এই দাবি তা খতিয়ে দেখতে হবে।
এ ধরনের এনজিও-র অর্থ কোথা থেকে আসে, তাদের ক্ষমতারই বা উৎস কী তাও খতিয়ে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ নাসিম।
বর্তমান সংসদে বিরোধী দল নেই বলে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে যে সমালোচনা করা হচ্ছে তার নিন্দা জানিয়ে নাসিম প্রশ্ন করেন, সামান্য অজুহাতে সংসদ বর্জন ও ঝগড়া-ঝাটি না হলেই সংসদে বিরোধী দল নেই এমন বক্তব্য ঠিক না।
বিগত ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হত্যা, সন্ত্রাস ও নানা চক্রান্ত সত্ত্বেও ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে- এমন দাবি করে নাসিম বলেন, সরকার তার পূর্ণ মেয়াদেই ক্ষমতায় থাকবে।
তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতের মন রক্ষা করতে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন করেনি। এটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত বুঝতে পেরে কর্মীদের মন রক্ষায় উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছে।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিলে যে ভরাডুবি হতো সেটা বুঝতে পেরেই বিএনপি সেই নির্বাচনে আসার সাহস পায়নি বলেও মন্তব্য করেন নাসিম।
বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা ঠেকাতে ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করতে আগামী এপ্রিল মাসে তৃনমূল পর্যায়ে গণসংযোগ বাঁড়াতে সারাদেশে কেন্দ্রীয় ১৪ দল সফর করবে বলেও জানান নাসিম।
স্থানীয় নির্বাচন পৃথীবির কোথাও সহিংসতা ছাড়া হয়না এমন দাবি করে নাসিম বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে দু, একটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এখন ডিজিটাল ও মিডিয়ার যুগে নির্বাচনে কারচুপি হয়না। অথচ বিএনপির সময় সহিংসতা ও কারচুপি হয়েছে।
টিআইবি ও সুজনসহ এনজিওগুলোরে প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা উস্কানি মূলক বক্তব্য না দিয়ে সরকারের ভুলত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করুন।
সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দল নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, সম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রি পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক,  সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।
[b]ঢাকা, এম আর, ২০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি  [/b]