বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেছেন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি এই দেশ বিগত ৫০ বছর যারা শাসন করেছে, তারা দেশকে দুর্নীতি, লুটপাট, জুলুম-নির্যাতন ও অপসংস্কৃতি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। ফলে দেশটা এখন একটা বৃহত্তর কারাগারে পরিণত হয়েছে। তাই দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, সাহসী ও মেধাবী মানুষের নেতৃত্বে একটি নতুন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি সুখী-সমৃদ্ধ এবং ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা জামায়াত আয়োজিত পৃথক পৃথক কর্মী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জুড়ী উপজেলা আমির হাফেজ নাজমুল ইসলাম ও বড়লেখা উপজেলা আমির এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মী শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য রাখেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি মসজিদে আদম-এর পেশ ইমাম মাওলানা আব্দুল মান্নান ও মৌলভীবাজার জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান।
আরো উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা নায়েবে আমির আব্দুল হাই হেলাল, বড়লেখা উপজেলা সেক্রেটারি মো: ফয়সল আহমদ ও জুড়ী উপজেলা সেক্রেটারি মো: আজিম উদ্দিন প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন তার নির্দেশিত পথে চলার মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি হাসিল করে জান্নাত লাভের জন্য। সেই চলার পথে আমাদেরকে কতগুলো পাথেয় হাসিল করা আবশ্যক। এর মধ্যে একটি হলো আমাদের ঈমানকে মজবুত করতে হবে। শিরক ও হারাম থেকে মুক্ত থাকতে হবে, হালাল রিজিকের সন্ধান করতে হবে। সর্বাবস্থায় সবর মুমিনের অত্যাবশ্যকীয় গুণ।
তিনি বলেন, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত, নামাজ-রোজা যথাযথভাবে আদায় করতে হবে এবং পাশাপাশি আমাদের আত্মগঠনের জন্য কুরআন, হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করতে হবে। বিশেষ করে মানুষকে ভালো কাজের দিকে, একে অন্যকে হকের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। আমরা সবাই যদি হকের দাওয়াত দেই, হকের উপর অটল থাকি, দুনিয়ার জীবনও আমাদের সুন্দর হবে। এখানে বাতিল, ইসলাম বিরোধী জাহেলি ও ফিৎনাবাজ গোষ্ঠী তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমরা বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন থাকার কারণেই এসব অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কারণ, আমরা ইসলামের পথে সঠিকভাবে চলি না, দৃঢ়তা দেখাই না বরং ভীরুতা দেখাই, ভয় পাই শত্রু ও শয়তানকে। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাওয়ার সুযোগে নেই।
তিনি আরো বলেন, বাতিলকে ভয় করবেন না। কেউ আপনার জীবন কেড়ে নিতে পারবে না। সম্প্রতি মৃত্যুবরণকারী মাওলানা ফয়জুর রহমান ও মো: ছাদিকুর রহমানের জীবন কি বাতিল কেড়ে নিয়েছে? আল্লাহর ইচ্ছা যেদিন হয়ে যাবে, আপনজনসহ কেউই আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। কেউ আপনাকে মারতেও পারবে না। মারা এবং রাখার ক্ষমতা আল্লাহর। সেই আল্লাহকে আমাদের ভয় করে চলতে হবে।
সেলিম উদ্দিন মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সূরা তাওবার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ আমাদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। আর আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন শুধুমাত্র আমরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার। এই সংগ্রামের পথে চলতে গিয়ে যদি আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা এটা মেনে নেব। আমাদেরকে জেল দেয়া হয়, জুলুম করা হয়, ফাঁসি দেয়া হয়। কিন্তু আল্লাহ এসবের বিনিময়ে আমাদেরকে জান্নাতের মত মহাপুরস্কারে পুরস্কৃত করবেন। আর দুনিয়াতেও তিনি আমাদেরকে ইজ্জত-সম্মানের সাথে রাখবেন।
জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, আমরা দুনিয়ায় এসেছি খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। আমরা এখানে বসেছি, একটু পরে এখান থেকে চলে যাব। এখানে বসার সময় যতটুকু সংক্ষিপ্ত তার চেয়ে কম সময় আমাদের দুনিয়ার জীবন। আখেরাতের তুলনায় এটা কোনো সময়ই না। তাই সময় থাকতে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। তিনি দুনিয়ার জীবনের চেয়ে আখেরাতের জীবনকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মরহুম আনকার মিয়া, মো: সাদিকুর রহমান ও বড়লেখার মরহুম মাওলানা ফয়জুর রহমানের বাড়িতে যান এবং তাদের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরিবারের লোকদের সান্ত্বনা দেন। শিশুদের আদর করেন। পরে তিনি মরহুমগণের কবর জিয়ারত ও মাগফিরাতের জন্য ফাতিহা পাঠ করেন।
এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা আমির মো: আব্দুল মান্নান, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মো: ইয়ামীর আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মো: আলাউদ্দিন শাহ, বড়লেখা উপজেলা আমির এমদাদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি ফয়সল আহমদ, মরহুম ফয়জুর রহমানের পিতা হাজী ওয়াহাব আহমদ, ভাই আজিজুর রহমান, চাচাত ভাই ইসলাম উদ্দীন ও এনাম উদ্দীন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ তারেকুল হামিদ, পৌর আমির হাফেজ তাজুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুরশেদ আহমদ চৌধুরী, সদর উপজেলা আমির মো: ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, মরহুম আনকার মিয়ার তিন ছেলে মো: আব্দুল আজিজ ছালিক, মো: আব্দুল ওয়াদুদ সাদী, আব্দুল বায়েছ শাহীন ও মরহুমের জামাতা জহির উদ্দিন প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
এবিএস





