একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে আটক থাকাকালে মৃত্যুবরণকারী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহেল আমান আযমীকে বাসা থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছে পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার রাত পোনে ১২টার দিকে মগবাজার কাজী অফিস লেনের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে সাদা পোষাকধারী বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে বলে্ও জানান পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশের একটি সোর্স জানায়, রাতে আযমীকে তার ১১৯/২ মগবাজারের বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। তবে কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, রাত ১১টার কিছু আগে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বড় মগবাজার কাজী অফিস গলিতে গোলাম আযমের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এসময় ওই গলিতে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
বেশ কিছুক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে রাত সোয়া ১১টার দিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কিছু লোক বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ওই বাসার ভেতর থেকে তারা চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। পরে আমান আজমিকে নিয়ে দ্রুত বাসার ভেতর থেকে বের করে এনে গাড়িতে তোলা হয়। এর পর তিনটি গাড়ি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ওই গাড়ি বহরের সঙ্গে একটি মোবাইল জ্যামারবাহী গাড়িও ছিলো।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বাংলা জাতীয় দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, 'আটকের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত নই। কারা অভিযান চালিয়েছে সে বিষয়টিও স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হয়নি।'
রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান রাতে একই গণমাধ্যমকে বলেন, 'এ ধরণের একটি খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই আমান আজমিকে নিয়ে যায় বলে শুনেছি।'
তিনি জানান, 'কারা তাকে নিয়ে গেছে তা আমরা নিশ্চিত হতে পারেনি। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তারপরও বিষয়টি আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
উল্লেখ্য, এর আগে প্রায় একই কায়দায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেমকে (আরমান) প্রায় একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নেয় বলে অভিযোগ তাদের স্বজনদের।
কেবি





