বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ভোটারবিহীন দখলবাজ সরকার ভোট, নির্বাচন ত্যাজ্য করে দেয়ার পর এদের মধ্যে হিংস্রতা ও আগ্রাসন এখন ক্রমশ: উর্দ্ধগামী। তাদের অপকীর্তির প্রতিবাদ করাকে তারা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। তাই এদেশে অপরাধ আর শাস্তি নির্ধারিত হয় বিরোধী দলের তৎপরতার হ্রাস বৃদ্ধির ওপর।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যেদেশে আইন, বিচার, প্রশাসনের গলায় দড়ি দিয়ে বেঁধে গোড়াটা ধরে রাখে নির্বাহী বিভাগ, সেদেশে মানুষের স্বাধীনতার অধিকারটা যে একটা রুপকথা তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
রিজভী আরও বলেন, অদ্ভুত প্যারাডক্স এই দেশের শাসনব্যবস্থা। নির্ভিক সত্য প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত সততা’র দৃঢ়চেতা মানুষ ‘আমার দেশ পত্রিকা’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘদিন ধরে কারাযন্ত্রনা ভোগ করতে হয়। আর আন্তর্জাতিকভাবে খেতাবপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ উপাধী পান দেশপ্রেমিকের, কিংবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে অভিষিক্ত হন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অবৈধ ক্ষমতার দর্পে বাহুবলী হয়ে আজ তারা মানুষকে মানুষ বলে তোয়াক্কা করছেন না। ক্ষমতার মদমত্তে দখলবাজ, চাঁদাবাজ, ছিনতাইবাজ, হলমার্ক, শেয়ারমার্কেট ও সরকারী ব্যাংক লুটেরাবাজরাই বাজপাখীর মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিদ্যমান অরাজকতায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি যেন পারস্যের মরমী সাধক শেখ সাদী (রা:)’র বাণীর সাথে হুবুহ মিলে যায়। তিনি বলেছিলেন-‘এমন একদিন আসবে যেদিন মূর্খরা উদ্ভট আদেশ জারী করে দেশ শাসন করবে, নির্বোধরা তাদের নির্বুদ্ধিতার জন্য গর্বঅনুভব করবে। পন্ডিতরা তাদের পান্ডিত্যের জন্য অনুশোচনাবোধ করবে। দুর্নীতিপরায়ণরা তাদের দুর্নীতির জন্য উল্লাস প্রকাশ করবে।’
রিজভী বলেন, আজকের শাসকদলের আন্দোলনের ফসল মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকারও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দুর্নীতিপরায়ণ বানাতে পারেননি। অথচ দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতার ঔদ্ধত্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে মাহমুুদুর রহমানকে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে।
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ন্যায় বিচারের পরিসর দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে আসছে এমন দাবী করে রিজভী বলেন, সরকার সকল প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের চেতনায় গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য আজ মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে আটক থাকতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ইতিহাস সৃষ্টিকারী একটি দল, তবে সেই ইতিহাসে সভ্যতার যুগ বলে কিছু নেই। অতীতে তারা বর্বর যুগ সৃষ্টি করেছিলো এখন তারা অধ:পতনের যুগ সৃষ্টি করেছে। এদের আমলে একমাত্র মৃত মানুষ ছাড়া ‘ফ্রিডম অব স্পীচ’ বা কথা বলার স্বাধীনতা কারো নেই। স্বাধীনভাবে কথা এবং লেখার জন্যই মাহমুদুর রহমানের মুক্তিলাভ হচ্ছেনা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলে কোনো বিদ্রোহ নেই, সরকার তার এজেন্টদের দিয়ে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।
এমএইচ





