দীর্ঘদিন ধরে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য আইনি লড়াই জোরদার করেতে এবং দলের সকল স্তরে সাংগঠনিক পূনর্গঠনের জন্য এই মূহুর্তে রাজপথে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে না বিএনপি। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে আপাতত দলকে শক্তিশালী করার জন্য অনেকটা কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে বিএনপি।
আন্দোলনের মাঝপথে বিরতি দিয়ে নেতাকর্মীরা প্রকাশে আসবে এই প্রত্যাশা নিয়ে তিন সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সরকারের দমন-পীড়ন আর নেতাকর্মীদের গা বাঁচানোর মনোভাবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন সংগঠনকে না গুছিয়ে আন্দোলনে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হওয়ার চেয়ে কৌশলী ভূমিকা নেয়াই হবে বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত।
দলের নেতারা মনে করছেন, আন্দোলনের প্রশ্নে সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারা, ত্যাগী নেতাদের দিয়ে দল পুনর্গঠন না করা, দলের বেশিরভাগ সিনিয়র নেতাদের সুবিধাবাদী অবস্থান, নেতা-কর্মীদের আত্মগোপন ও নিষ্ক্রিয়তায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক অবস্থায়।
এরপর গত বছর পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচনের পরে হঠাৎ করেই আন্দোলনে বিরতি দেওয়ায় মাঠের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। সাথে যোগ হয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের নামে মামলা-গ্রেফতার, গ্রেফতার এড়াতে মাঠের নেতকর্মীদের চলে যেতে হয় আত্মগোপনে। এসবের মধ্যেই এ বছরের ছয় জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো, সরকারের দমন-পীড়ন, নেতা-কর্মীদের গুম-খুন, মামলা ও দীর্ঘ সময় ধরে কারাবাসের বাইরে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরাও পিছু হটে। যার কারণে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা অবরোধ কর্মসূচি শেষ পর্যায়ে এসে ‘ঘোষণা নির্ভর’ হয়ে পড়ে।
তাই এখন কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে হলে আন্দোলন নয় আগে দল গোছাতে হবে। এটি হাই কমান্ডও বুঝতে পেরেছেন। আর এজন্য দল গোছানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে দলের সহ-সাংগঠনিক ও সহ-দফতর সম্পাদক পদে দুজনকে পদায়ন করা হয়েছে। শিগগিরই দলের অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।এরপর জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তাভাবনাও করছে দলটি।
অন্যদিকে আগামী মাসের মধ্যভাগ থেকে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। সেই সময়ের রাজনীতি অনেকটাই ইফতার পার্টি কেন্দ্রীক সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এই রোজার মাস জুড়ে ইফতার পার্টির মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এবং নেতাকর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে দলটি।
এজন্য ঈদের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজপথে কোনো সভা-সমাবেশ এমনকি বিক্ষোভের মত কোনো কর্মসূচির সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
তবে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের পর মাঠের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে আবারও প্যাকেজ কর্মসূচি দেওয়া হবে। এজন্য রাজধানী ও রাজধানীর বাইরেও দেশের কয়েকটি জেলায় সমাবেশের আয়োজন করা হতে পারে। এসব সমাবেশে দলের চেয়ারপারসন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন।
দলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দল গোছানো খুবই জরুরি। কারন সবমিলিয়ে মাঠের নেতাকর্মীরা এমনিতেই হতাশ। এটা মাথায় রেখে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। এমন কর্মসূচি নেয়া ঠিক হবে না যাতে করে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আরও কোনঠাসা হয়ে পড়তে হয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, বিএনপির আগামী দিনে কর্মসূচি কি ধরনের হবে সেটি দলের নীতি নির্ধারকরা ঠিক করবেন।তবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সফল করতে হলে জনগনের প্রত্যাশা অনুযায়ি সুসংগঠিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব দরকার। সেই প্রত্যাশা পূরণে এবার দলকে পূনর্গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পর গণতন্ত্র পুনরোদ্ধারের চলমান আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবর রহমান টাইমনিউজকে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সহসাই কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থাও আন্দোলনের উপযুক্ত নয়। অন্যদিকে দলকে শক্তিশালী করার জন্য পুণর্গঠনের দিকেই মনযোগী হতে হচ্ছে। এরপরেই আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন সফল হওয়ার জন্য দরকার একটি শক্তিশালী সংগঠন। সেজন্য আন্দোলনের আগে সংগঠন গোছানোর ওপর জোর দিচ্ছে বিএনপি।
এমএইচ





