সুশাসনের অভাবে দেশে গুম-খুন বাড়ছে রোজার আগেই পরিবারের সদস্যরা তাদের গুম হওয়া সদস্যদের ফিরে পেতে চায় সুশাসনের অভাবে দেশে গুম, খুন বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

প্রশাসনে জাবাবদিহিতা থাকলে দেশের আইন শৃঙ্খলার এ নাজুক পরিস্থিতি হত না।বৃহস্পতিবার (২৬ মে ২০১৬) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আজ এই পরিবারগুলোর কাছে জাবাবদিহি করতে হবে, দুই বছর হয়ে যাওয়ার পরও কেন এই গুম হওয়া মানুষগুলোকে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হল না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি নিজে স্বজন হারিয়েছেন, তাই স্বজন হারানোর বেদনা আপনি বোঝেন। তাই অবিলম্বে গুম হওয়া মানুষগুলোকে রোজার আগে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন।

তিনি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাকে অভিযুক্ত করে বলেন, ভারতের এই গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের অঘটন ঘটিয়ে, নেপালসহ ভারতের আশেপাশের দেশগুলোর মত বাংলাদেশের ওপরও নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে। ‘সাদা পোশাকে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না ' হাইকোর্টের দেয়া এই রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম আঁখির সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বড় বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌসী। এসময় সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন, সালিসী কেন্দ্র’র পরিচালক নূর খান লিটন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার সংগঠন সিআর আবরার, মুক্তি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর হাকিম লালা, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, গুম হওয়া তরিকুল ইসলাম তারার বোন নূরুন্নাহার, মাজহারুল ইসলাম রাসেলের ভাই মসিউর রহমান লোটাস সহ গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, গুম হওয়া আবদুল কাদের ভূইয়া মা আয়েশা আক্তার, আসাদুজ্জামান রানার বোন মিনারা খাতুন সহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিভিন্ন স্থান থেকে সাবেক ৩৮ নং ওয়ার্ড (বর্তমান ২৫নং ওয়ার্ড) বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন সহ ৮ জনকে গুম করা হয়।

পরবর্তীতে একই মাসে বিভিন্ন জায়গা থেকে আরো ১১ জনকে গুম করা হয়। তারা কেউ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কেউ তিতুমীর কলেজের ছাত্র, তেজগাঁও কলেজ সহ বিভিন্ন বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা অশ্রু সজল চোখে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কিছু চাই না আমাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের পবিত্র রোজার আগেই ফিরত চাই। এই মানববন্ধনে নিষ্পাপ শিশুরা রয়েছে। তারা তাদের বাবার সাথে ঈদ করতে চায়। তারা আরো বলেন, আমরা আর কত বছর অপেক্ষা করবো।

গুম হওয়ার ১ম সাংবাদিক সম্মেলনে মায়েরা উপস্থিত হয়েছিল। আজ দুজনের মা ছাড়া অন্য মায়েরা উপস্থিত হতে পারে নি। কারণ তাদের সেই শক্তি নেই। সন্তান হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তারা শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। আমাদেরও শক্তি ফুরিয়ে আসছে। জানিনা এভাবে আমাদের স্বজনদের জন্য কতদিন দাঁড়াতে পারবো। আমরা আমাদের স্বজনদের উপস্থিতি ছাড়া অন্যকিছুই ভাবতে পারছি না। এভাবে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের কান্নায় প্রেসক্লাবের গোটা পরিবেশের চিত্রই পাল্টে যায়।

এআই/ইআর