আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ৮০ ভাগ নতুন মুখ দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণের আহ্বানও জানান তিনি।  

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে ইজ্ঞিনিয়ার শফিকুল ইসলামকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনায়ন প্রত্যাশী হিসেবে তাকে চিহ্নিত করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী।

মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদ সম্মেলনের আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়াণগঞ্জ-৩ আসনের সোনারগাঁও, পিরোজপুর, মুড়াপাড়া, মুদাবগঞ্জ, বৈদ্দের বাজার এলাকার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাফফার চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো এমপির নমিনেশনের জন্য কাউকে পুরারিশ বা সমর্থন করিনি। আমি ইচ্ছা করলেই বঙ্গবন্ধুকে বলতে পারতাম, আমার এলাকায় অমুককে দিন। কিন্ত তা বলিনি। এবার শফিকের কাজ কর্ম দেখে বিশেষ করে আমি যখন শেখ হাসিনার ওপর একটি ডকুমেন্টরি তৈরি করছিলাম। তখন শফিকুল আর্থিক সহযোগিতাসহ সবরকমের সাহায্য করেছে। তখন আমার মনে হয়েছে আওয়ামী লীগে এখন নতুন নেতৃত্ব আসা প্রয়োজন।  

তিনি বলেন, দেশে এতো উন্নয়নের পরেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এর একটা কারণ হলো আওয়ামী লীগের এক শ্রেণির এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ভেতরে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ঢুকে গেছে। আমি আমার গ্রামের গিয়েও দেখি ব্যাবসায়ীরা চাদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ। উপজেলা পর্যায়েও কিছু সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের পরিচয় দেন। এর আগেও আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনেকবার বলেছি। আওয়ামী লীগে একটা শোধন দরকার।

গাফফার চৌধুরী বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ৮০ শতাংশ নতুন মুখের দরকার। নতুন সৎ ও দেশপ্রেমীক নেতা ছাড়া শুধুমাত্র কেউ এমপি নির্বাচিত হয়ে আসেন। তাহলে আওয়ামী লীগ যে সাফল্য অর্জন করেছে তা ধরে রাখা খুব মুশকিল হবে। এখন আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব দরকার এবং আগের কাঠামো ভাঙা দরকার। ছাত্রলীগ, যুবলীগের সংস্কার দরকার।

নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁও আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম বলনে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ৯ বছরে বাংলাদশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিগত ৪০ বছরেও হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্যপুত্র ও তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মহাকাশ জয় করেছে। এটাই শেষ নয় দেশে খুব শীঘ্রই চালু হচ্ছে ৫-জি সেবা । বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড়িয়েছে।  

তিনি আরও বলেন, সরকারের এতো প্রাপ্তির মাঝেও একটা আক্ষেপ থেকে যায়, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন দেশের প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ে বেশ কিছু এলাকায় বিদি্যুৎ নেই। পিরোজপুর, মুগরাপড়া, মুদাবগঞ্জ, বৈদ্দের বাজার এলাকার অনেক রাস্তা ভাঙা, দলীয় সাংগঠনকি দুর্বলতার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা এবং দলীয় র্কমীরাও বেশ হতাশ।  

তিনি আরো বলেন, সোনাগাঁওয়রে অন্যতম সমস্যাগুলোর এলাকার নেতাদের দুর্বল সাংগঠনকি র্কাযক্রম ও দূরত্ব। এতে একদিকে যেমন সরকাররে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে অন্য দিকে আমাদের সম্ভাবনাময় যুবসমাজ মাদকের ছোবলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি দল মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এলাকার উন্নয়নে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নির্মুলে কাজ করবো। পাশাপাশি সোনারগাঁওয়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সুযোগ্যপুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের নির্দেশে আমি এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

এসএম