জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে তার স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম । তিনি অধ্যাপক গোলাম আযমের সুচিকিৎসার জন্য মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এ দাবি জানান।

সৈয়দা আফিফা আযম বলেন, শনিবার আমার স্বামী, অধ্যাপক গোলাম আযম (৯২) এর সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের দিন ছিল। বিএসএমএমইউ এর ‘প্রিজন সেল’ এ বিকালে দেখা করে এলাম উনার সঙ্গে। উনার শারিরীক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ যাবতকালের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আজ উনাকে দেখা গেল। শারিরীকভাবে এতই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে বিছানা থেকে দুইজনে ধরে উঠাতে হয়েছে। দৃষ্টিশক্তি অনেক ক্ষীণ হয়ে এসেছে, শ্রবণশক্তি অনেক হ্রাসপ্রাপ্ত এবং গলার আওয়াজ অত্যন্ত ক্ষীণ। কথা বলতে উনার কষ্ট হচ্ছিল এবং মুখের কাছে কান রেখে কথা শুনতে হচ্ছিল। হাত-পা-ঘাড়-মাথা এগুলো নাড়ানোর শক্তিও উনার নেই। দিন দিন ওজন কমছে, শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছেন। এ পর্যন্ত ছয় বার বাথরুমে পড়ে গেছেন। গত এক মাসের কম সময়ের মধ্যেই তিন বার পড়ে গেছেন। খাওয়া-দাওয়া প্রায় করতেই পারছেন না বলা চলে।

তিনি বলেন, গোলাম আযমের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার উনার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছিল এবং ডাক্তার উনাকে উনার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশ্চর্যের বিষয় হলো, উনার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে উনাকে জানানো হলেও উনার মারাত্মক এই শারিরীক অবনতির কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা জেল কর্তৃপক্ষ কেউই আমাদের অবহিত করেনি।

আমরা আশঙ্কা করছি যে, এই ধরনের অবজ্ঞা, অযত্ন, অবহেলা, উপেক্ষা ও অমানবিক আচরণের ফলে যেকোনো সময়ে মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্ববরেণ্য এই নেতার চিকিৎসা ও সার্বিক দেখা-শোনার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদাসীনতা ও অবহেলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক, যা কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষেরই কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় আমার স্বামী অধ্যাপক গোলাম আযম এর সুচিকিৎসা ও সেবা-যত্ন নিশ্চিত করার জন্য উনাকে অতি সত্ত্বর মুক্তি দিয়ে পরিবারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাখার অনুমতি দেয়ার জন্য আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর অনুরোধ জানাচ্ছি। তা না হলে, অন্ততপক্ষে সার্বক্ষণিক একজন পারিবারিক এ্যাটেনডেন্ট রাখার অনুমতি অন্তত দেয়া হোক।

বিশ্বে ইসলামী আন্দোলনের মহান নেতার এমন অবহেলা ও অযত্নজনিত কারণে মারাত্মক কোনো অবস্থার সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে।

তিনি আরও বলেন, সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এবং মানবিক দৃষ্টিকোনো থেকে বিষয়টি বিবেচনা করার মানসিকতা তৈরি হোক; এই কামনা করি। সেই সঙ্গে তিনি অধ্যাপক গোলাম আযমের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ