ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হিন্দু যুবক বিপুল চন্দ্র বৈদ্য শুভ -এর ফেসবুকে মহান আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ আয়োজিত সমাবেশে পুলিশের গুলিতে নিহত ৪ ব্যক্তির শাহাদাত কবুল এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর (শুক্রবার) বাদ জুমা সারাদেশে মসজিদে-মসজিদে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির মকবুল আহমাদ বলেন, “মহান আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকারী হিন্দু যুবক বিপুল চন্দ্র বৈদ্য শুভ-এর ফাঁসির দাবীতে ‘ভোলার সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ কর্তৃক’ ঘোষিত ৬ দফা দাবি দ্রুত কার্যকর করে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, অন্যথায় পরিস্থিতি সরকারের আয়ত্ত্বের বাইরে চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।”
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “ভোলায় পুলিশের গুলিতে ৪জন নিহত ও দেড়শতাধিক লোক আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সারা দেশে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ভোলার ঘটনায় দেশের সর্বস্তরের জনগণ বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির সাথে, গোটা দেশবাসীর সাথে আমরাও একাত্মতা ঘোষণা করছি। ভোলার বোরহান উদ্দিনে জনগণের উপর কেন গুলি চালাবার হুকুম দেয়া হয়েছে এবং কেনই বা গুলি চালিয়েছে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে সঠিক রহস্য উদ্ঘাটন হওয়া উচিত।”
মকবুল আহমাদ বলেন, “দেশবাসী উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছে যে, বোরহানউদ্দিনের নৃশংস ঘটনার পরে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা মহান আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটুক্তিকারী যুবকের পক্ষে সাফাই গেয়ে ঐ ঘটনার প্রতিবাদকারীদের ভৎসনা করে উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয়ায় এবং সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেড়েছে। বিপুল চন্দ্র বৈদ্য শুভকে ও জনগণের উপর গুলি বর্ষণকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে তা সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে। সরকার একদিকে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ৬ দফা দাবি মেনে নেয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে ৫ হাজার নিরীহ লোককে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এ থেকে সরকারের দ্বৈত ভূমিকাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, জনগণের ৬ দফা দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক নয়। জনতার আন্দোলন বানচালের জন্য সরকার কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।”
“তাই পরিস্থিতি ঘোলা না করে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং আগামী শুক্রবার ২৫ অক্টোবর বাদ জুমা নিহত ব্যক্তিদের শাহাদাত কবুল ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে মসজিদে মসজিদে মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে বিগলিত চিত্তে দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি” -যোগ করেন জামায়াত আমির।
শুক্রবার বাদ জুমা দোয়ায় অংশগ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখার প্রতি আহ্বান জানিয়ে এবং দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন মকবুল আহমাদ। একই সাথে নিহতদের পরিবার-পরিজন ও আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ
অপর এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারী অধ্যাপক মো. তাসনীম আলম দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার ১ম পৃষ্ঠায় ২২ অক্টোবর প্রকাশিত দু’টি রিপোর্টে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় গত ২০ অক্টোবর সংঘটিত ঘটনার নেপথ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা আবিস্কার করে প্রদত্ত ভিত্তিহীন মিথ্যা তথ্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গত ২০ অক্টোবর ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি হিন্দু যুবক কর্তৃক মহান আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে কটূক্তি করার ঘটনার স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদ করার ফলে সংঘটিত দুঃখজনক ঘটনার নেপথ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা আবিষ্কার করে দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত দু’টি রিপোর্টই একেবারে ডাহা মিথ্যা। আমি জনকণ্ঠের এ ভিত্তিহীন মিথ্যা রিপোর্ট দু’টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তাসনীম আলম বলেন, “আমি স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, বোরহান উদ্দিনে সংঘটিত ঐ ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোন সম্পর্ক নেই। কোন ঘটনা ঘটলেই তার নেপত্থ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা আবিস্কার করে মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করা দৈনিক জনকণ্ঠের অতি পুরোনো অভ্যাস। দৈনিক জনকণ্ঠের এ ধরনের আষাঢ়ে গল্প দেশবাসী বিশ্বাস করে না।
তাই এ ধরনের ভিত্তিহীন মিথ্যা অলীক কল্প-কাহিনী প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার জন্য আমি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।” প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





