শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এবং আট দফা দাবি না মানলে এক দফার আন্দোলনে যাবো। তবে আট দফা মানা হলে এক দফার দরকার নাই। কিন্তু তা মানা না হলে এক দফার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
ঢাকা থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া লংমার্চের বহরটি বগুড়ায় পৌঁছালে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তা বরণ করে নেন। মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভাটি বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা লংমার্চে যুক্ত হন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দিয়েছিল। আপনারা সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও চেয়েছি। কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করলেও আপনারা জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করেননি।
চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, নতুন সংবিধানে রিটেনের চেয়ে ভাইভার মার্ক ডাবল করা হচ্ছে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের বসানোর জন্য। ২৪-এর আন্দোলনে আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে, বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তানকে নিখোঁজের দুই দিন পর মৃত পাওয়া গেছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এবারকার লংমার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে। আগামী লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। কোনো হুমকি-ধমকি বা নাটকের পারোয়া আমরা করি না। জনগণের অধিকার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।
এর আগে, লংমার্চটি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা লংমার্চকে স্বাগত জানান। লংমার্চে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মাটিডালির পথসভা শেষে গাড়ি বহরটি রংপুরের অভিমুখে রওনা হয়।
এস





