যশোরের অভয়নগরের মালোপাড়া,চাপাতলাসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা সাম্প্রদায়িক নয়,রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে মন্তব্য করেন বিএনপির নাগরিক তদন্ত কমিটি।
যশোর-সাতক্ষীরার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন ও ভিকটিমদের সাথে কথা বলে বিএনপির নাগরিক তদন্ত কমিটি শুক্রবার বিকালে যশোর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
তারা বলেন,সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধর’ নামে নিরপরাধ বহু মানুষকে হত্যা ও বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে। কিছু রাজনৈতিক হত্যাকান্ডও ঘটেছে। গোটা সাতক্ষীরা এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত ও মৃত্যুপুরী ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম পুরুষশূন্য।
যশোর,সাতক্ষীরা,কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার ঘটনা তদন্তে বিএনপির গঠিত নাগরিক তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন,যশোরের অভয়নগর মালোপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা প্রকৃত ঘটনা বলতে চায়। কিন্তু তারা ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। কেউ কোনো সত্য কথা বলে ফেললেই, প্রভাবশালীরা ধমক দিয়ে তাদের থামিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন,আমি পাকিস্তান আর্মির বর্বরতা দেখেছি। কিন্তু স্বাধীন দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে এমন বর্বরতা চালাতে পারে,সাতক্ষীরা না গেলে তা বোঝা যাবে না। সেখানে যৌথবাহিনীর নামে প্রায় প্রতিদিনই মানুষ খুন করা হচ্ছে। খুনের শিকার মানুষেরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। সন্ত্রাসের অভিযোগ তাদের নামে নেই। প্রায় সবাই নিরীহ। এই রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বন্ধ হওয়া দরকার বলে অভিমত দিয়ে তিনি বলেন,না হলে পরিণতি বিপজ্জনক হতে পারে।
রুহুল আমিন গাজী অবিলম্বে আমার দেশ,দৈনিক ইনকিলাব,দিগন্ত টিভি,ইসলামী টিভিসহ বন্ধ সব মিডিয়া খুলে দেওয়া এবং নির্যাতনের শিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ বিনাবিচারে আটক সব সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়ে ভিন্নমত প্রকাশের পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানান।
তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী সাতক্ষীরার পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন,গোটা সাতক্ষীরা এখন যেন এক মৃত্যুউপত্যকা। চারিদিকে কান্নার রোল, স্বজনহারাদের আহাজারি। গ্রামে গ্রামে বহু কবর,যারা যৌথবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের স্বজনরা জানেন না,কী কারণে অস্ত্রধারী বাহিনী এভাবে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে।
তালায় যৌথবাহিনীর গুলিতে নিহত আজহারুল ইসলামের স্ত্রীর বরাত দিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন,তারা জানতে চেয়েছেন,পুলিশ কি মানুষ হত্যার জন্য,নাকি মানুষের নিরাপত্তা বিধানের জন্য? এই রাষ্ট্র কার জন্য? রাষ্ট্রের কি দায়িত্ব নেই,সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের?
যশোরের মালোপাড়া সম্বন্ধে জাতীয় প্রেসক্লাবের এই যুগ্ম-সম্পাদক বলেন,সেখানে হিন্দু-মুসলিম চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন চাপাতলার মানুষেরা। ৫ জানুয়ারির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনো সা¤প্রদায়িক ঘটনা ছিল না।
ক্ষতিগ্রস্ত সুনীতি বিশ্বাস তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন,গফফার নামে এক যুবলীগ নেতা তার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। যৌথবাহিনীর বিরুদ্ধে যে খুন-খারাবির অভিযোগ উঠছে তা যেন আর না হয় সে দাবি জানান তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব।
এরআগে প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার সাতক্ষিরা জেলার ক্ষতিগ্রস্থ ২৩টি স্থান পরিদর্শন করেন। এসময় তদন্ত দলের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্থ ঘরবাড়ী পরিদর্শন ও ভিকটিমদের বক্তব্য শুনে হতভম্ব হয়ে যান।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা আজ শনিবার কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার নির্বাচন পরবর্তী ঘটনাসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাগুলো পরিদর্শন ও ভিকটিমদের সাথে কথা বলবেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে সহিংসতা,সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা,গুম,আইনশৃঙখলা বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে গত ২২ জানুয়ারি পেশাজীবীদের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর জন্য পৃথক চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তদন্ত কমিটিতে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিন আহমেদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়েদুল ইসলাম,সিনিয়র সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী ও জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।
[b]ঢাকা, জানুয়ারি ৩১ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) // কেএইচ[/b]
রাজনীতি
মালোপাড়ার ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয়, রাজনৈতিক সন্ত্রাস
যশোরের অভয়নগরের মালোপাড়া,চাপাতলাসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা সাম্প্রদায়িক নয়,রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে মন্তব্য করেন বিএনপির নাগরিক তদন্ত কমিটি





