স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যারা নোংরামি করছে তারা ভুল করছে। ভাস্কর্য নিয়ে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান শিগগিরই হবে।”
মঙ্গলবার (০৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এই কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “ভাস্কর্য রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার, দেশের জনগণের এবং আমাদের সরকারের। আপনারা দেখেছেন, কারা এটা (ভাঙচুর) করেছে। আমরা সবগুলোকে অ্যারেস্ট করেছি।”
তিনি বলেন, “শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নয়, কুষ্টিয়াতে বাঘা যতীনের ভাস্কর্যও ভাঙা হয়েছে। তাদেরও আমরা চিহ্নিত করেছি এবং তাদের নামে মামলা হয়েছে।”
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এই সহ-সভাপতি বলেন, “যাতে জন্ম-জন্মান্তরে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চিনতে পারে, জানতে পারে এই বাঘা যতীন কে ছিলেন কিংবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তিনি যে শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, সারা বিশ্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি তাঁকে যেন হৃদয়ে ধারণ করতে পারি, সেই কারণে ভাস্কর্য আমরা তৈরি বা স্থাপন করি।”
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “এগুলো হলো ইতিহাসে সংস্কৃতির একটা অংশ বা পার্ট। বাংলাদেশ যে শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য আছে, তা নয় আরো অনেক ভাস্কর্য রয়েছে। সারা পৃথিবীতে মুসলিম চিন্তাবিদ বা লিডারদের ভাস্কর্য অনেক জায়গায় রয়েছে। মুসলিম তারকাদের ভাস্কর্য রয়েছে। আমরা মনে করি, ভাস্কর্য কোনো পূজার জিনিস নয়। স্মৃতি ধরে রাখার জিনিস, হৃদয়ে ধারণ করার জিনিস।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাইকে আহ্বান করব, আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না। এই কাজটি যারা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেবেন। আর এ দেশের জনগণ অনেক সংস্কৃতিমনা। কাজেই এ দেশের জনগণ কোনোদিন কোনো ভাস্কর্য ভাঙেনি। এগুলো ষড়যন্ত্র, এরা চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারী, তাদেরই একটা অপপ্রয়াস।”
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য আসলামুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিব হাসান, সহসভাপতি মিজানুর রহমানসহ অনেকে সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এমবি





