বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ছাত্রনেতা আনিসুর রহমান খোকনসহ সরকারি বাহিনীর হাতে গুম হওয়া সকল নেতাকর্মীকে ফিরিয়ে দেওয়া ও অবিলম্বে শেখ হাসিনার বিদায়ের দাবিতে বৃটিশ ফরেন অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে দুই ঘন্টাব্যাপী এ বিক্ষোভে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।
যুক্তরাজ্য বিএনপি, আইনজীবী ফোরাম, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তরুন দল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং সাধারণ প্রবাসীরা হাতে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘণ, সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি এবং রাজনৈতিক হত্যার চিত্র সংবলিত প্লাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে দলে দলে যোগ দেন। তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে দখলদার এবং শেথ হাসিনাকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী অভিহিত করে অবিলম্বে তার পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধিনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দাবি করেন।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ, সাবেক আহ্বায়ক এমএ মালেক, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল হামিদ চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপদেষ্টা মজিবুর রহমান, উপদেষ্টা আবদুল হান্নান, সহসভাপতি তইমুছ আলী, মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরী মামুন, গোলাম রব্বানী, তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক নাসিম আহমেদ চৌধুরী, সহসাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল, ফেরদৌস আলম, হেলাল নাসিমুজ্জামান, করিম উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন সেলিম, আজমল হোসেন জাভেদ, হাবিবুর রহমান ময়না, খলিলুর রহমান ফল, আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ, সদস্য সচিব সলিসিটর বিপ্লব পোদ্দার, যুবদলের আহ্বায়ক মোকাদ্দিম চৌধুরী নিয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির আহমেদ শাহীন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন, জাসাস সভাপতি এমএ সালাম, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হাসান জাহিদ, হেভেন খান, মিজবাহউজ্জামান সোহেল, তরুন দলের সদস্য সচিব এমএম সেলিম, সরফরাত সরফু, আমিনুল ইসলাম, সাউথ ইস্ট বিএনপি সভাপতি শাজন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া, ক্যান্ট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, দৈনিক দিনকালের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি আখতার মাহমুদ, দৈনিক সংগ্রামের লন্ডন প্রতিনিধি নূরে আলম বরষণ প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলছে, তা স্তব্ধ করতে সরকার পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে। এটা কোনো সভ্য দেশে চলতে পারে না। তারা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অন্যতম যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের পর থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ আন্দোলনের জোট ২০ দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদ গ্রেফতার এড়িয়ে দল-জোটের পক্ষ থেকে বক্তব্য-বিবৃতি প্রদান ও কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে গত ১০ মার্চ রাতের আঁধারে দরজা ভেঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেয়ার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের সেই ক্রোধেরই বহি:প্রকাশ ঘটেছে।
সালাহ উদ্দিন আহমেদকে এভাবে তুলে নিয়ে যাবার ঘটনার ব্যাপারে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের অস্বীকৃতি এবং আদালতের নির্দেশনার পরও তাকে ফেরত না দেয়ার আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
বক্তারা আরো বলেন, এখন দেশে আইন যে স্বাভাবিক গতিতে চলছে না, এটা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। জাতীয় পর্যায়ের একজন রাজনীতিকের ক্ষেত্রে যেখানে এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সেখানে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা যে কতখানি অনিশ্চিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। অবিলম্বে সালাউদ্দিন আহমেদকে ফেরত দিতে বিশ্ব নেতৃত্ব এবং সব মানবাধিকার সংস্থার সহেযাগিতা কামনা করেন তিনি।
এমআর/কেএইচ





