পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ।
এসময় মানববন্ধন থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি ও বেতন ভাতাসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ।
দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে:
১. পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফ সারাদেশে ব্যাপকভাবে পালনে সরকারীভাবে ক) সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ, খ) রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনে সব মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা জারী, গ) এই মাসে মুসলিম কর্মচারীদের বোনাস প্রদান, ঘ) মাসব্যাপী সরকারী ছুটি প্রদান, ঙ) সরকারী সকল স্থাপনা মনোরম সাজে সজ্জিত করণ, চ) সকল প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মীলাদ শরীফ মাহফিল ও তাবারুকের আয়োজন, ছ) গরীব, দুঃখীদের নতুন পোশাক, ওষুধ বিতরণ, নগদ অর্থ, চাল বরাদ্দ ও বিশেষ খাবার সরবরাহ, জ) সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগীতার আয়োজন এবং ঝ) সরকারীভাবে উৎপাদিত সকল পণ্যে ছাড় দিতে হবে।
২. রাষ্ট্রীয়ভাবে বছরব্যাপী ইসলামী ও সামাজিক অনুষ্ঠানসূচী ঘোষণা করা। যেমন, ওয়াজ মাহফিল, দ্বীনি তা’লীমের ব্যবস্থা, বই প্রদর্শনী, সামরিক প্রদর্শনী, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা, পতাকা উত্তোলন, অস্বচ্ছল ও বেকারদের চাকুরীর ব্যবস্থা দেয়া, গৃহহীনদের গৃহ দেয়ার ঘোষণা দিতে হবে।
৩. সব শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুমহান জীবনী মুবারক বাধ্যতামূলক করতে হবে। উনাদের শানের খিলাফ বিষয়গুলো প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি উনাদের মানহানীকর লেখা-লিখনীসহ যাবতীয় বিষয় নিষিদ্ধ করে যেকোন মানহানীকারীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে হবে।
৪. পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সর্বস্তরের জনগণের সাথে এবং এমপি মন্ত্রী কর্তৃক নিজ এলাকাবাসীর শুভেচ্ছা বিনিময়ের উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফ উনার সম্মানে সর্বপ্রকার অশ্লীল ও অশালীন কাজ বন্ধ করতে হবে। দেশে মোবাইল ও ইন্টারনেটে পর্নো এবং ভারতীয় টিভি সিরিয়াল এবং সুন্দরী প্রতিযোগীতা বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
৬. আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফ দিবসকে বিশ্বছুটির ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৭. আন্তর্জাতিক সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ আন্তর্জাতিক উৎযাপন কমিটিকে সর্বোচ্চ সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
অন্যান্য দাবি:
৮. ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ-এর অংশ হিসেবে স্বীকৃতির প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু পরিবার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক মোবারকবাদ।
৯. ইহুদী আঁতাতে মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফকে আলাদা করে ভ্যাটিকানের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র এবং পুরো দেশকে চার টুকরা করার ইহুদী পরিকল্পনা প্রতিহত করতে হবে। ইহুদী-খ্রীষ্ট পরিকল্পনায় মুসলিম ঐতিহ্য এবং মুসলিম বিশ্ব ধ্বংসের সৌদি ষড়যন্ত্র রুখে দাড়াতে হবে। বেলেল্লাপনার “নিয়ম শহর” নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে সৌদি নির্যাতন বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
১০. রোহিঙ্গা ত্রান বিতরনে ব্রাকসহ বিদেশী মদদপুষ্ট সব এনজিও নিষিদ্ধ করতে হবে। দেশী-বিদেশী সন্ত্রাসবাদী ও দালালদের খপ্পর থেকে রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুদের রক্ষায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে হবে।
১১. ইদানিংকালে গয়েশ্বর মার্কা উগ্র মৌলবাদী হিন্দুরা প্রায়ই উস্কানীমূলক পোষ্ট দেয়। আর তাতে জামাত-শিবির ফাঁদ তৈরী করে। সে ফাঁদে পড়ে সাধারণ মুসলমানরা গ্রেফতার ও নিপীড়ণের স্বীকার হয়। কিন্তু মূল উগ্রবাদী মৌলবাদী হিন্দুরা প্রশাসন ও মিডিয়ার ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। সাধারণ মুসলমানদের এভাবে আর হয়রানি ও গ্রেফতার করা যাবেনা। মূল উগ্রবাদী গয়েশ্বর মার্কা হিন্দু দুস্কৃতিকারীদের জামাই আদরে রাখা যাবেনা। তাদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
১২. কথিত জিহাদের অপব্যাখ্যা করে পাঠ্যপুস্তক থেকে মুসলমানদের শৌর্যবীর্যের ইতিহাস ঐতিহ্যমন্ডিত অধ্যায়সমূহ মুছে ফেলার নাস্তিক্যবাদী ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। জিহাদ আর সন্ত্রাসকে এক করে দেখানো যাবেনা। মুসলমানিত্ব নির্মূলের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে তা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে পুণরায় হিন্দুত্ববাদ প্রবেশ করানোর চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। শিক্ষানীতি ও সিলেবাস প্রণয়ন কমিটি থেকে অবিলম্বে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের বহিস্কার করতে হবে। হক্কানী আলেম ওলামাদের অর্ন্তভূক্ত করতে হবে।
এছাড়াও সমাবেশে বক্তারা পবিত্র রবিউল আউয়াল যথাযথ মর্যাদায় পালন এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
জেড





