বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বুঝে আসে না আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমস্যা কোথায়?
জাতীয় প্রেসক্লাবে শুক্রবার বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।
আমির খসরু বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনী ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ কেন সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিরুদ্ধে আমরা বুঝতে পারছি। তারা আশঙ্কা করছে সেনাবাহিনী থাকলে কেন্দ্র দখল করা যাবে না, আগের রাতে ভোটের বাক্স ভরা যাবে না। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিফলিত হবে।
যারা বলে সেনাবাহিনীকে ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া হলে ‘মার্শাল ল’ আসবে তাদের জ্ঞান পাপী হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা মানে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া নয়। পুলিশেরও ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা রয়েছে। পুলিশ কি বিচার করে? করে না। সেই রকম সেনাবাহিনীকেও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে যাতে তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারে, জনগণকে রক্ষা করতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরো বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারটি সরকারের কাছে এত স্পর্শকাতর হয়ে গেল কেন- তা দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন করে এতগুলো নির্বাচন হলো একটিও প্রশ্নবিদ্ধ হলো না। কিন্তু সেনাবাহিনী ছাড়া নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলো। তাহলে তাদের তদারকিতে নির্বাচনের বিষয়টি স্পর্শকাতর হলো কেন?’
‘তাদের (আওয়ামী লীগ) কাছে সেনাবাহিনী স্পর্শকাতর। কারণ, তাঁরা ভয় পাচ্ছেন নিজেদের দুর্বলতার কারণে। সেনাবাহিনীর প্রতি কোনো রাজনৈতিক দলের দুর্বলতা থাকলে বুঝতে হবে তাঁরা দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি অন্যায় করছেন। একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করলে তাদের ভয় হতো না।
সেনাবাহিনী দেশের মানুষের যেকোনো দুর্যোগের সামনে দাঁড়িয়েছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো এত বড় বিপদ বা দুর্যোগ আর নেই। এমন দুর্যোগে সেনাবাহিনীর ভূমিকা থাকলে তাদের সমস্যা কোথায়? নিশ্চয়, ডাল মে কুচ কালা হয়া। কোনো সমস্যা অবশ্যই আছে, না হলে তাদের ভয় কেন?’
আগামী সংসদ নির্বাচনে মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে বলেও দাবি করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার পাশাপাশি লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করার দাবিও জানান তিনি।
এসময় আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা রেজাবুদ্দৌলাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।
এএস





