বকশিবাজারে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতেই সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারাদেশের জেলা সদরে এবং ঢাকা মহানগরে এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষনা করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি জানান, সরকার দলীয় সমর্থকদের ওই ‘হামলায়’ ৬’শ নেতাকর্মী আহত ও ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষনা করা হলো।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতস্থলে উপস্থিত হওয়ার ৫মিনিট আগে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা’ পুলিশ র্যাবের ছত্রছায়ায় গুলি-বোমা ফাটিয়ে হামলা শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিলো, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা। এজন্য বাসা থেকে আদালতে আসার পথে প্রতিটি সিগনালে তাকে নিরাপত্তাবলয় থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী) হামলায় ৬’শ নেতাকর্মী আহত হয়েছে এবং ৫০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই ধরনের আচরণ থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তা না হলে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য এর দায় আওয়ামী লীগেরই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপির এই মূখপাত্র বলেন, ‘সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই বলে ক্ষমতা ধরে রাখতে জনগণের স্বত:স্ফূর্ত আন্দোলন দমন করতে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। বকশিবাজারে এর মারাত্মক প্রকাশ ঘটেছে।’
গাজীপুর জনসভা নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সভাস্থলে গিয়ে দায়িত্বরতদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। জনসভা ঘিরে টানানো ব্যানার, ফেস্টুন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।
মির্জা আলমগীর প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রধানমন্ত্রী গাজীপুর থেকে আসার পর থেকেই এই তান্ডব শুরু হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, তার (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশেই এগুলো শুরু হলো কি না?
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জতি, শামীমুর রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক মো: আকরামুল হাসান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ





