সংবিধান প্রণেতা এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমাদের ছেলেরা ন্যায্য প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছে। কোটা সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার। লক্ষ লক্ষ জীবন দিয়ে এই অধিকার অর্জন করা হয়েছে। তরুণ সমাজের ওপর আক্রমণ এটা লজ্জার বিষয়। এই ছাত্ররা কোনো পকেট ভারী বা লুটপাট চাচ্ছে না। তারা বলছে সংস্কার করো।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এইসব কথা বলেন।  ড. কামাল বলেন, যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে আছে, তারা রাজাকারের বাচ্চা নয়, বাংলাদেশের সন্তান।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার জ্যেষ্ঠ সদস্য প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ৮৭তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘কয়লা চুরি, ব্যাংক ডাকাতি, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি বন্ধ করে ভোটাধিকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।  

প্রবীণ এই আইনজ্ঞ বলেন, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের ওপর ভর করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে হবে, দুর্নীতিবাজদের ওপরে না। অনেকে সেটা ভুলে গেছে, আমরা যাইনি। বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন দেশকে ভোগ করার জন্য জীবন দিয়ে যাননি। তাঁরা নীতির ব্যাপারে আপস করেননি। কিন্তু তাঁদের দলের নাম ভাঙিয়ে যে জিনিস দেখতে হচ্ছে, তা অসহ্য। এটা বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা হচ্ছে।

ড. কামাল আরও বলেন, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি হচ্ছে। ব্যাংক ডাকাতি হচ্ছে, কয়লা চুরি হচ্ছে। মাটি চুরিও হবে। কিন্তু এইসব চুরির অপরাধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তিনি প্রশ্ন রাখেন।

ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য নয়, দেশের মাটি মানুষকে রক্ষা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ড. কামাল হোসেন।

“রাষ্ট্র ক্ষমতা নিয়ে পাগল হওয়ার কিছু নেই। এটা চিরস্থায়ী না। এটা থাকলেই যা ইচ্ছা তা-ই করব, যাকে যা ইচ্ছা তা-ই বলব, এটা হয় না।” বলেন ড. কামাল। 

অনুষ্ঠানে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিমুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এমবি