দেশের রাজনীতি,সংবাদমাধ্যম আর বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ডিজিটাল বাকশালের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

দৈনিক মানবকণ্ঠের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পার্থ এসব কথা বলেন।

পার্থ বলেন, “একসময়ে সরকার আদালতের একটি রায়কে অজুহাত দেখিয়ে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে মীমাংসিত রাজনৈতিক ইস্যু-তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করেছে। এখন সেই আদালতের স্বাধীনতা আর বিচারকদের চাকরি খাওয়ার বিধান সংসদের কাছে রাখছে। অর্থাৎ আগে কোর্ট দিয়ে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ধ্বংস করেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়ে, এখন সংসদ দিয়ে কোর্টের ক্ষমতা ধ্বংস করবে। তারপর আপনাদের (সাংবাদিকদের) সংবাদমাধ্যম বন্ধ হবে। আর আমরা রাজনীতিবিদদের তো আগেই খেয়েছে। মামলা-হামলা-গুলি আর গুম তো আছেই। এরপর দেখবেন কি সুন্দর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ছে আওয়ামী লীগ।”

 ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, “সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণে মনে হচ্ছিল তারা অনেক আগেই এই নীতিমালা করবে। কিন্তু তারা অনেক দেরিতে এই নীতিমালা করেছে। প্রত্যেকটা ফ্যাসিবাদী সরকারই একটা পর্যায়ে এসে প্রত্যেকটা উইংকে বন্ধ করে দেয়। প্রশাসন, বিচার বিভাগ দলীয়করণ করে। শেষদিকে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণজাগরণ মঞ্চ দেখিয়ে আগেই গণমাধ্যমকে নিজেদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করেছে। তবে এখন গণমাধ্যম সরকারের সব ছলচাতুরি বুঝে গেছে। আসলে ক্ষমতায় টিকে থাকতেই তারা এই নীতিমালা করেছে।”

 তিনি বলেন, “সরকারের এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সবাই একসময়ে ঐক্যবদ্ধ হবে। এমনকি আপনারাও (সাংবাদিক) চলে আসবেন আন্দোলনের সামনের কাতারে-নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায়।”

 বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্পর্কে পার্থ বলেন, “সৌদি আরবে তারেক রহমানের সঙ্গে এবাদত-বন্দেগি করেছি। ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছি। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন।”

 পার্থ আরো বলেন, “অনেকে বলেন, তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী শক্তির ভবিষ্যৎ রাজনীতির কাণ্ডারি। তবে আমি বলব, তারেক রহমান শুধু ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমান জাতীয়তাবাদী শক্তির অনেক বড় স্তম্ভ। আর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে তারা যথার্থ নেতৃত্বকে বাছাই করতে সক্ষম।”

 দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ে তিনি বলেন, “দেশে এখন ২০ দল বনাম ১৪ দলের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। যেখানে ২০ দলীয় জোট রাজনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী। সম্প্রতি ২০ দল ঘোষিত কর্মসূচিই শেষ কর্মসূচি নয়। আন্দোলনের গতিবেগ বাড়াতে কিছু ওয়ার্মআপ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে গণসংযোগ, জেলায় জেলায় সফর, সমাবেশের মতো কর্মসূচি দেয়া হবে। যতদ্রুত মানুষের রেসপন্স আসবে এবং রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হবে ততদ্রুতই গরম কর্মসূচি দেয়া হবে। ”

 কতদিন এ ধরনের ওয়ার্মআপ কর্মসূচি চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে পার্থ বলেন, “আন্দোলনের টার্গেট থাকলেও দিনক্ষণ নির্ধারণ করে আন্দোলন হয় না। আমরা চাইব যতদ্রুত সম্ভব এ সরকারের পতন ঘটাতে। সেজন্য জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনের একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করতে হবে। সেটা এক মাসও হতে পারে, দুই মাসও হতে পারে।”

 মামলা দিয়ে আন্দোলন দমানোর সরকারের কৌশল মোকাবিলার ব্যাপারে ২০ দলীয় জোটের তরুণ এই নেতা বলেন, “সরকার বিএনপিসহ ২০ দলের সব সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়েছে। তবে এবার মামলা দিয়ে আন্দোলন দমাতে পারবে না। কারণ এবার আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। যত মামলা-হামলা ও নির্যাতন হোক না কেন রাজপথে থাকব। এবং সব দিক গুছিয়েই আন্দোলন করব। আর আন্দোলন একটি চলমান প্রক্রিয়া।”

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জোটের মধ্যে ক্ষোভ ও জোট ভাঙার সম্ভাবনাকে তিনি একেবারে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছি না।”

 তিনি বলেন, “২০ দলীয় জোট একটি মহানগর এক্সপ্রেস। এ ট্রেন থেকে কেউ নেমে পড়লে তিনি ট্রেন মিস করবেন। তিনি আর ট্রেন ধরতে পারবেন না। আর বিএনপি জোটকে মূল্যায়ন করে না বলেও যে অভিযোগ বাতাসে ঘুরে বেড়ায় তা সঠিক নয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অত্যন্ত আন্তরিকভাবে জোটের বৈঠকে আমাদের মতামত শোনেন, গুরুত্ব দেন এবং প্রয়োজনে আমাদের মতামতকে বাস্তবায়ন করেন।”

সূত্র:দৈনিক মানবকণ্ঠ

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেইউ,