সারা দেশে মোট সক্ষম দম্পতির সংখ্যা দুই কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৬ জন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বৃহস্পতিবার সকালে দশম জাতীয় সংসদের প্রস্তাবিত বাজেট অধিবেশনে মো. মামুনুর রশিদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এতথ্য জানান মন্ত্রী। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে (আংশিক সিটি করপোরেশন এলাকাসহ) মোট সক্ষম দম্পতি ২ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৬ জন। এদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণকারী দম্পতি ২ কোটি ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮ জন। এতে শতকরা ৭৮ দশমিক ৬ জন দম্পত্তি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেন।  প্রতি বছর একবার দম্পতিদের বয়স, সন্তান সংখ্যা ও পদ্ধতিভিত্তিক এ সংখ্যা নির্ণয় করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে সারা দেশে শূন্য সন্তানবিশিষ্ট সক্ষম দম্পতি ছিল ২৩ লাখ ২২ হাজার ৩৪৪ জন। যাদের  মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণকারী সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৯ জন। অর্থাৎ, শতকরা ৩৫ দশমিক ৭৫ জন। এদের মধ্যে ১১ লাখ ৭৬  হাজার ১৭৯ জন কোন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেনি এবং ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭১৬ জন ছিলেন গর্ভবতী।

এম আবদুল লতিফের টেবিলে উত্থাপিত আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার কোনো প্রতিষ্ঠানেই দুর্নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।শুধু জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল নয়, যে কোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেই দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘‘দেশের হৃদরোগের একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল। এ হাসপাতালটি দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষের হৃদরোগ চিকিৎসার ভরসাস্থল হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। অনিয়ম দুর্নীতিতে ডুবে আছে প্রতিষ্ঠানটি। উৎকোচ ছাড়া এক পাও নড়েন না অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। সরকার জনস্বার্থে হাসপাতালের সব অনিয়ম দুর্নীতি রোধকল্পে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না? প্রশ্নকর্তার এমন প্রশ্নের জবাবে উল্লেখিত কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

একই প্রশ্নকর্তার আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কমিশন বাণিজ্যের বিষয়টি অনৈতিক ও পেশাগত বিধিমালার পরিপন্থি। বিষয়টি নিয়ে সরকার বেশ তৎপর। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পেশাগত নীতিমালা রক্ষায় চিকিৎসক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে।

এ ছাড়া এটি মোকাবিলার জন্য একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘‘রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট নিয়ে চিকিৎসা বাণিজ্যে (কমিশন বাণিজ্য) যুক্ত রয়েছে একশ্রেণির অর্থলোভী ডাক্তার। এ বিষয়ে সরকার কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না?’’প্রশ্নকর্তার এমন প্রশ্নের জবাবে উল্লেখিত কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ইআর