প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ড. কামাল এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ ঐক্যফ্রন্টের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল গণভবনে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হলেও তারা নৈশভোজে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
সংলাপে বসার ব্যাপারে সম্মত হলেও হঠাৎ করে কেন নৈশভোজে অনাগ্রহী বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা?
এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নৈশভোজে বিএনপি নেতাদের অনীহা এবং খাবারের মেন্যু নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অতি বাড়াবাড়ি হওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা নৈশভোজে আগ্রহী নন।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বহুল কাঙ্ক্ষিত সংলাপ শুরু হচ্ছে আজ। সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে ঐক্যফ্রন্টকে সংলাপ এবং নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নৈশভোজে নিজেদের অনাগ্রহের কথা ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু।
ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের নেতা ও ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটির অন্যতম সদস্য মমিনুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সূত্র জানায়: মূলত বিএনপির কথায় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবনে নৈশভোজ করবেন না। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি গণভবনে নৈশভোজ চায় না বলে বিএনপির একটি সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বলেন: নৈশভোজ করে আনন্দিত হওয়ার সময় নয় এটি। আমাদের নেত্রী কারাগারে। এমন সময় আমরা গণভবনে গিয়ে নৈশভোজ করে সন্তুষ্টির ঢেকুর গিলতে পারি না।
নৈশভোজ না করা বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন: ‘এটি সঠিক। আমরা সংলাপে যাচ্ছি, নৈশভোজে নয়৷ আলোচনার কোনো খবর থাকবে না, আগে খেতে বসে যাবো তা তো হবে না। আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ আছে ২ ঘণ্টা।
এর মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। ২ ঘণ্টা সময়ে খাওয়া দাওয়া এড়াতে চাই। সংলাপের ফলাফল না জেনে, কথায় আছে না ‘বিয়ে ভেঙে গেছে কিন্তু খাওয়া চালু আছে’- তা কি হয়?
এই অনিশ্চয়তার মধ্যে খাওয়ার পর্ব আমরা বাদ দিতে বলেছি। আমরা নিশ্চয় খাবো তবে সফল একটি সংলাপের পর৷’
নৈশভোজ না করার পেছনে কারণ হিসেবে নাগরিক ঐক্যের নেতা মমিনুল ইসলাম বলেন: ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সংলাপ। বিএনপিও বলেছে নৈশভোজ চায় না৷ আমরাও চাই না। সংলাপে তো এখন গণহারে যাচ্ছে৷ তারা তো এতদিন প্রধানমন্ত্রীর পাশেই ছিলো৷ সংলাপ করেনি কেন?
আমরা সংলাপের প্রস্তাব দেয়ার পর সবাই সংলাপে যাচ্ছে। এটি তো সংলাপ নিয়ে ফাইজলামি। এছাড়া পত্রপত্রিকা খাবারের মেনু নিয়ে যা হলো তা তো হাস্যকর। যেন আমরা দাওয়াত খেতে যাচ্ছি! এজন্য এই সিদ্ধান্ত। আমরা আমাদের কায়দায় থাকছি।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন: ‘এ ধরণের কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ভালো মনে করি৷ সংলাপে বসা হবে, কথা হবে, আলাপ আলোচনা হবে। নৈশভোজ তো মুখ্য নয়। আলোচনার সময় বাঁচানোর জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ববৃন্দ সবাই মিলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ভালো সিদ্ধান্ত মনে করি।’ এএস





