রাজধানীর পল্লবীতে জাতীয়তাবাদী সমর্থিত ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে সরকারি জমি বরাদ্দে কোন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস।
আজ সোমবার দুদক উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তাকে বিকেল পৌনে ৩ টা থেকে পৌনে ৪টা পর্যন্ত মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদক থেকে বেরিয়ে যাবার সময় সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তাদের সরকার সাংবাদিকদের প্রতি অনেকটা সহানুভুতিশীল ছিল। যার ফলে সকল নিয়ম নীতি মেনেই সাংবাদিকদেরকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগের সরকারের সবকিছুতেই এখন অনিয়ম আর দুর্নীতি খুঁজছেন। আমরা জমি বরাদ্দ দেয়ার ৯ বছর পরে এসে তারা অনিময় এবং দুর্নীতি বের করার চেষ্টা করছেন।
নক্সা পরিবর্তন প্রসংগে তিনি বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ পছন্দ না হলে যে কোন সময় নক্সা পরিবর্তন করতেই পারেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর পাঠানো তলবি নোটিশে তাকে দুদক কার্যালয়ে সকাল ১০ টায় ঢাকা মহানগর বিএনপি আহবায়ক ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়।
এর আগে আজ দুদকে আসেন নৌ-পরিবহন মন্ত্র্রী শাহজাহান খান। তিনি সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক ডাকেনি। সাক্ষ্যি দেয়ার জন্য ডেকেছে।
অথচ মিডিয়ায় না বুঝে উল্টো নিউজ করেছে। তিনি তো আসামি নয়, দুদক তার বক্তব্য ও মতামত গ্রহণের জন্য ডেকেছে। তিনি আজ হাজিরা দেয়ার জন্য এসেছেন।
শাহজাহান খান বলেন, তার নেতৃত্ব বিভিন্ন পেশার লোকজনকে নিয়ে ঝিলমিল নামে একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন। আর এ সমিতির নামে পল্লবীতে সরকারি জমি বরাদ্দের আবেদন করা হয়। সাবেক আওয়ামীলীগ সরকার করে জমি বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করে নক্সা তৈরি করা হয়।
তিনি বলেন,চারদলীয় জোট সরকারের গ্রহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস এবং সাবেক প্রতি মন্ত্রী আলমগীর কবির প্রতিহিংসার বশবতি হয়ে শাহজাহান খানদের সমিতির জমি বরাদ্দের আবেদন বাতিল করেন।
একই সঙ্গে ২০০৬ সালে জাতীয়তাবাদী সমর্থিত ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির নিজেই আবেদন করে সরকারি জমি বরাদ্দ দেন।
দুদকের মামলার অভিযেগে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে জাতীয়তাবাদী সমর্থিত ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে তৎকালীন সরকার ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে প্রায় ৭ একর বরাদ্দ দেন।
ওই জমির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা । ফলে সরকার ১ হাজার ৫৫২ কোটি ৫০ হাজার ৯০০ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জানা যায়, গত ৬মার্চ শাহবাগ থানায় দুদক বাদী হয়ে ওই সমিতির নামে জমি বরাদ্দে নানা অনিয়ম এবং দুনীতির অভিযাগে সাবেক গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ সরকারের ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
ওই মামলার বাকি আসামিদের রয়েছেন সাবেক উপপরিচালক ভুমি সম্পদ ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ ও বর্তমান সদস্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ মো. আজহারুল হক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান।
একে/এসএইচ





