বগুড়ায় শিয়া মসজিদে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ পত্রে পুলিশ কর্তৃক পরিকল্পিত ভাবে ছাত্রশিবিরকে জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

আজ মঙ্গলবার এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারী জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, “এই ন্যাক্কার জনক হামলার সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে পুলিশ যে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে তাতে আমরা বিষ্মিত। অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে জেএমবি ও শিবিরের জঙ্গিরা মসজিদে হামলা চালিয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ হামলার সাথে ছাত্রশিবিরের দূরতম কোন সম্পর্ক নেই।

একটি নৃশংস ঘটনা নিয়ে পুলিশের এই পরিকল্পিত মিথ্যাচার শিয়া মসজিদে চালানো নৃশসংতার সাথে তামাশা করার শামিল। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের মধ্যে কেউ ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত ছিল না। তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত, যা বিভিন্ন সময় পুলিশ নিজেই স্বীকার করেছে।

ঘটনার একদিন পর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। আজ পর্যন্ত কেউ এই ঘটনার সাথে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার কথা বলেনি। পুলিশ বিশেষ কোন মহলের নির্দেশে আগবাড়ীয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মামলায় ছাত্রশিবিরকে জড়িয়েছে।”  

নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম সম্পর্কে দেশবাসী সম্পূর্ণ অবগত। দীর্ঘ পথ চলায় কখনোই কোন উগ্রপন্থা বা জঙ্গিবাদ স্থান পায়নি বরং তা আমাদের আদর্শের বিরোধী। ছাত্রশিবির সব সময়ই উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এর পরও ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে এমন জঘন্য মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র কার স্বার্থে, জাতি তা জানতে চায়।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “নিজেদের পবিত্র দায়িত্বের প্রতি নূন্যতম শ্রদ্ধবোধ থাকলে পুলিশ এমন নীতিহীন কাজ করতে পারত না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা বলব, এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা এখন শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ড পুলিশের অবস্থানকে আরো বিতর্কিত করে তোলবে। যা কাম্য নয়। আমরা অবিলম্বে এই মিথ্যা অভিযোগ পত্র প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে শিয়া মসজিদে হামলার প্রকৃত ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে চার্জশীটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”(বিজ্ঞপ্তি)

এমবি