ঝিনাইদহ থেকে শহিদ আল মাহমুদকে এবং গত রাতে রাজধানী থেকে ৩ শিবির নেতাকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার ও আদালতে হাজির না করায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং অনতিবিলম্বে তাদের সন্ধান দাবী করে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, গত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ৯ নাম্বার রোডের ১১ নাম্বার বাসার ৬ তলা থেকে ছাত্রশিবির ঝিনাইদহ শহর শাখার সাবেক সভাপতি ইবনুল ইসলাম পারভেজ, একই শাখার ছাত্রকল্যাণ ও আইন সম্পাদক এনামুল হক, ঝিনাইদহ পলিটেকনিকের সাবেক ছাত্র আনিসুর রহমানকে সাদা পোষাকদারী পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদেরকেও এখন পর্যন্ত আদালতে হাজির করা হয়নি।

সাদা পোষাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা এবং আদালতে না তোলা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন। পুলিশের এমন অস্বাভাবিক আচরণে আমাদের মনে নানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে ঝিনাইদহ থেকে অনেক ছাত্র-শিক্ষককে বেআইনি ভাবে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে রাতের আধাঁরে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে পুলিশ। যা আমাদের উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশের এই অমানবিক আচরণে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদের পরিবারের সাথে সাথে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এর আগে, গত ১৩ই জুন ঝিনাইদহ শহরের বদনপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ছাত্রশিবির নেতা শহিদ আল মাহমুদকে। পুলিশ সাদা পোষাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উপস্থিত জনতা তাদের মধ্য থেকে এসআই আমিনুর ও এসআই উজ্জলকে চিনতে পারে। কিন্তু প্রকাশ্যে তাকে গ্রেপ্তারের পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।

আমরা মনে করি, ঝিনাইদহে টার্গেট কিলিংয়ের মধ্যদিয়ে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

একেরপর এক মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করে হত্যা করেছে পুলিশ। কোন অভিযোগ ছাড়াই মা বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে একজন নিরপরাধ মাদ্রাসা ছাত্রকে ও রাজধানী থেকে আরও ৩ ছাত্রকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার এবং বেআইনি কাযক্রমের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, এই নিরপরাধ ছাত্রদের নিয়ে কোন প্রকার নাটক বা তাদের সামান্যতম ক্ষতি ছাত্রশিবির মেনে নিবে না।

অবিলম্বে আমরা গ্রেপ্তারকৃত শিবির নেতাদের অবস্থান নিশ্চিত ও তাদের আদালতে হাজিরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুস্বরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। সেই সাথে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেন না ঘটে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এফএফ