খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হওয়ার পর প্রত্যেকবার বিএনপি নেত্রী চুপ ছিলেন। এবারও তিনি চুপ আছেন। কিন্তু আমি ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছি, নিজামীর ফাঁসি নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানার। কারণ এবারতো তার ঘনিষ্ট রাজনৈতিক মিত্রের ফাঁসি হয়েছে, যে শীর্ষ রাজাকারকে তিনি মন্ত্রী বানিয়েছিলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের সঙ্গে বেঈমানী করে নিজামীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে আল-হেরা কমিউিনিটি সেন্টারে নবগঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। কামরাঙ্গীর চর আওয়ামী লীগ এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
হানিফ বলেন, আপনারা গণমাধ্যমে দেখেছেন-জামায়াতের আমীর মতিউর নিজামীর ফাঁসি হওয়ার প্রতিবাদ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। কারণ মুক্তিযদ্ধের সময় তাদের অপকর্মের সহযোগী ছিলো নিজামীদের মতো নরপিশাচ দোসররা। এই দেশটি সবসময়ই বাইরের বিষয়ে নাক গলিয়েছে। আর সবসময়ই নির্লজ্জ মিথ্যাচারে লিপ্ত, কারণ এই ব্যর্থ রাষ্ট্রের জন্মই মিথ্যাচার দিয়ে। তাদের এই ধৃষ্টতার তীব্র ধিক্কার জানাই। ফের যদি তারা এই ধরণের দু:সাহস দেখায় তবে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আমরা রাখবো কিনা তা বাংলার জনগণ ভেবে দেখবে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের যদি এতই দরদ, তবে তাদের দোসর প্রিয় ব্যক্তিদের বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গিয়ে তাদের দেশের নাগরিকত্ব দিক। আমরা এই দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তারের প্রেতাত্বের দেখতে চাইনা।
জামায়াত যে ধর্মের নামে রাজনীতি করে এটা ধর্ম সমর্থন করে না। বরং এই দলটি পাকিস্তানের এজেন্ট। এটা আমরা বহুবার বলেছি। দলটির শীর্ষ নেতা যারা স্বাধীনতা বিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলো তার বিচার হচ্ছে। এখন সময় এসেছে জামায়াতের রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ করার বলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, এই (ঢাকা-২) এলাকায় কিছইু ছিলো না। এখন এই এলাকায় সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড, বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে। এই যে উন্নয়নের ছোঁয়া ও আধুনিকতা তা বর্তমান সরকারের সফলতা ও অর্জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশেও এরকম উন্নয়ন হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে সন্ত্রাস ও বোমা মেরে জঙ্গিরাষ্ট্র বানাতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে, আগুন সন্ত্রাস করে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব চক্রান্তকারীরা পরাজিত হতে বাধ্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, কামরাঙ্গীরচরসহ সারাদেশে বর্তমান সরকার যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে তা জনগণ আনন্দের সঙ্গে ভোগ করছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও জনগণের মাঝে যে পরিমাণ উচ্ছাস আমি দেখছি, সরকারের ওপর যে আস্থা তাদের তৈরি হয়েছে তাতে পাকিস্তান ও তাদের দোসরদের সকল চক্রান্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সালোচনায় এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, তার (খালেদা জিয়া) প্রতিটি কর্মকা-ই মিথ্যাচারে ভরপুর। জনগণের সঙ্গে তিনি তামাশা করেছেন। আগুন দিয়ে মানুষ মেরেছেন। তাই তিনি এখন আর আপোষহীন নেত্রী নন, বরং মিথ্যাচারের নেত্রী। তাকে বলতে চাই, জামায়াত, ইসরায়েল, পাকিস্তানসহ দেশি-বিদেশি যতবড় শক্তি নিয়ে চক্রান্ত করেন না কেনো কোনো লাভ হবে না। সব অপশক্তিই আমাদের পায়ের নীচে পরাভূত হতে বাধ্য। আর খালেদা জিয়া যদি তার ষড়যন্ত্র বন্ধ না করেন তবে বিচারের মাধ্যমে কারাবরণ অপেক্ষা করছে তার জন্য।
কামরাঙ্গীরচর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সভাপতিত্বে নুরে আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসানত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, কামরাঙ্গীর চর সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আবু হোসেন সরকার প্রমুখ।
ইআর/এমআইএস





