বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিসমূহ উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই বাস্তবায়িত হবে প্রত্যাশা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রীকে গুরুত্ব না দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বৈঠক করেছেন।
এর মধ্য দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা বার্তা ও ইশারা দিয়ে গেছেন। একইসাথে প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের জন্যও চীন ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে বিএনপি।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একথা বলেন।
‘চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর : ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন বার্তা’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা।
সংগঠনের সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানসহ দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
গতকাল শুক্রবার ঢাকার হোটেল লা মেরিডিয়ানে চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
চীনা প্রেসিডেন্টের সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অভিহিত করে তিনি বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট এ সফরে বাংলাদেশের জনগণকে এই বার্তাই দিয়ে গেছেন যে, বাংলাদেশের যেকোনো সঙ্কটে দেশটির জনগণের পাশে চীন আছে।
এছাড়া দেশটির জনগণ তাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে যাতে মাথা উঁচু করে নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারে সেজন্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের পাশে রয়েছে চীন। একইসাথে দুই দেশ ও জনগণের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শি জিনপিং।
চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২৭টি চুক্তি প্রসঙ্গে ড. মোশাররফ বলেন, প্রতিটি চুক্তিই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নে চীন যে অর্থনৈতিকভাবেও রয়েছে, সেই বার্তা দেয়ার জন্যই এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিএনপি প্রত্যাশা করে, উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ সুরক্ষা ও উন্নয়ন এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয় স্বত্ত্বা বজায় রেখেই এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হবে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের সাথে চীনা প্রেসিডেন্টর বৈঠক না হওয়া এবং প্রটোকল ভেঙে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক হওয়া প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ বলেন, রাষ্ট্রপতিরা কোনো দেশ সফরে এলে সাধারণত সে দেশের সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলের সাথে সাক্ষাত করে থাকেন। আর পার্লামেন্টে থাকা বিরোধী দলকে তারা স্বীকৃতি দেন। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পার্লামেন্ট যেহেতু নির্বাচিত নয় এবং সেখানে প্রকৃত জনগণের প্রতিনিধি কিংবা বিরোধী দলও নেই, সেজন্য চীনা প্রেসিডেন্ট সংসদের বিরোধী দলকে কোনো গুরুত্ব দেননি।
বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী খালেদা জিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এতে আমরা মনে করি, জিনপিং বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা বার্তা ও ইশারা দিয়ে গেছেন।
চীন বাংলাদেশকে ‘ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জানিয়ে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, এই উপমহাদেশ ও মহাদেশে নানা রকম অশান্তি সৃষ্টি ও ষড়যন্ত্রের পায়তারা চলছে। সেজন্য চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সাথে আর্থিক-কূটনৈতিক এবং জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কানেক্টিভিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয় জানিয়ে ড. মোশাররফ বলেন, বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় আমরা আকাশপথে বাংলাদেশের আথে চীনের কানেক্টিভিটি শুরু করেছিলাম, এখন সেটার সম্প্রসারণ হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে তা আরো বিস্তৃতি লাভ করবে।
বিএনপির আমলে প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ের কথা উল্লেখ করে দলটির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরি করে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে কুনমিং হাইওয়ের সাথে যুক্ত হয়ে থাইল্যান্ড-চীনের সাথে সংযুক্ত হলেই পুরো পূর্ব-এশিয়ার সাথে আমাদের কানেক্টিভিটি হয়ে যায়। চীন সমর্থিত এ কাজে আমরা অগ্রসরও হয়েছিলাম।
কিন্তু আমরা সরকার থেকে চলে আসার কারণে সেটা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আশা করি, বাংলাদেশের সাথে কানেক্টিভিটির জন্য চীন এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে। এ সময় সমুদ্রপথে কানেক্টিভিটির জন্য বিএনপির আমলে আরেক প্রস্তাবিত সোনাদিয়া ডিপ সি-পোর্টের কথাও উল্লেখ করেন মোশাররফ।
তিনি বলেন, চীনও তখন এ ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছিল। এটা হলে বাংলাদেশ ও চীন উভয়েই এর সুফল পাবে, স্বার্থ রক্ষা হবে উভয় দেশের জনগণের। তাই আশা করি, এটা বাস্তবায়ন করে চীন দুই দেশের জনগণেরই স্বার্থ রক্ষা করবে।
বাংলাদেশ সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদের শিকার, এমন অভিযোগ করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না। অথচ চীনের নীতি সবসময় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, শান্তির পক্ষে সব সময় তাদের অবস্থান।
এসএম





