জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, “শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা সহ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সরকার পরিকল্পিতভাবে জুডিশিয়াল কিলিং এর মাধ্যমে হত্যা করেছে। প্রকৃত সাক্ষীদের গুম ও অপহরণ করে সেফহোমের সাঁজানো স্বাক্ষী ও মিথ্যা স্বাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করে সরকার দেশের বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এমনকি আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পূর্বেই রিভিউ এর সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে শহীদ কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে সরকার প্রমাণ করেছিল যে, ন্যায়বিচার নয় বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াত নেতাদের হত্যা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।”
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ৪র্থ শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর এক মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে ড. হেলাল উদ্দিন এসব কথা বলেন। দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার সহকারী এম আলাউদ্দিন আরমান স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় এসব জানানো হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. হেলাল আরও বলেন, “আবদুল কাদের মোল্লার বিচারিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ব্যবস্থার একটি বিভৎস চিত্র জাতির সামনে ফুটে উঠেছে। তিনি শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার শেষ ইচ্ছার আলোকে তার শাহাদাতকে কাজে লাগিয়ে সকল প্রকার জুলুম-শোষণের অবসানের লক্ষ্যে বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করেন এবং সকলকে শহীদের শেষ ইচ্ছা বাস্তবায়ন করার উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, এদেশে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমেই শহীদ কাদের মোল্লার হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ কামাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর শাজাহানপুর থানা আমীর (ভারপ্রাপ্ত) ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মু. আবদুল জব্বার, সবুজবাগ থানা সেক্রেটারি আব্দুল বারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুল আলম ইমন সহ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
মু. আব্দুল জব্বার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলার সবুজ ভূ-খন্ডে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনে শামিল হওয়াই ছিল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার একমাত্র অপরাধ। ইসলামী আন্দোলনকে নেতৃত্ব শূন্য করতেই নিরপরাধ আব্দুল কাদের মোল্লাকে বিচারের নামে চরম অবিচার করে শহীদ করা হয়েছে। জীবন্ত আব্দুল কাদের মোল্লার চেয়ে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা আরো বেশী শক্তিশালী। ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার বিচারে আব্দুল কাদের মোল্লাকে শহীদ করা হলেও শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর আদালতে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন ইনশাআল্লাহ।”
আলোচনা শেষে শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা সহ সকল শহীদ নেতৃবৃন্দের মাগফিরাত কামনা এবং আমীরে জামায়াত মাওলানা মকবুল আহমাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল সহ সকল কারাবন্দি নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া দেশ, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেও দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
এমবি





