হত্যা ও খুনের রাজনীতি পরিহার করে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,'দেশের সকল নাগরিকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। জনমনে শান্তি নেই, স্বস্তিও নেই। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ সকল নাগরিকদের মাঝেই এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে আওয়ামী লীগের সংকীর্ণ প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির স্বার্থে।'

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আক্রমণাত্মক ও উস্কানীমূলক বক্তব্য রেখে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন।

রাষ্ট্রের কোন শাখা যথার্থভাবে কাজ করতে পাচ্ছে না। বিশেষ করে মানুষের শেষ আশ্রয় স্থল আদালত অঙ্গণে চলছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। বিনা বিচারে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে মাসের মাস কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। সেখানে চলছে মানবিক বিপর্যয়।

প্রতিদিনই অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আজও সারা দেশব্যাপী গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে জামায়াত ও ২০ দলীয় জোটের প্রায় দুইশত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পূর্ব শাখার আমীর জনাব সাইফুল ইসলাম ম-ল এবং মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের হাতে বন্দী হয়ে পড়েছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, জনগণের ওপর অত্যাচারের স্টীম রোলার চালিয়ে কোন স্বৈরশাসক ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারেনি, আওয়ামী লীগও পারবে না। আওয়ামী লীগ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্ভর একটি দলে পরিণত হয়েছে। এটাই আওয়ামী লীগকে পতনের দিকে নিয়ে যাবে।

'আমরা হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জুলুম-নিপীড়নের পথ পরিহার করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহবান জানাচ্ছি।'

এমকে