আপীলের রায়ে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখার প্রতিবাদে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা হরতালের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বিবৃতির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।
এ সময় তারা জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরেুদ্ধে দেয়া রায়ের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
তারা বলেন, সরকার কামারুজ্জামানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার পবিত্র আশুরার দিন মুহাম্মদ কামারুজ্জামানসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য দেশব্যাপী দোয়ার অনুষ্ঠান এবং ৫ নভেম্বর বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৭ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতাল।
কর্মসূচী শান্তিপূর্ণ উপায়ে সফল করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা এবং কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজ ও পেশাজীবীসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান এ নেতারা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। মিথ্যা, সাজানো বায়বীয় অভিযোগে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকার ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। দলীয় লোকদের দ্বারা স্বাক্ষ্য প্রদান করে সরকার মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে হত্যা করার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ব্যবস্থা করে।
দেশবাসী আশা করেছিল মহামান্য সুপ্রীমকোর্টে ন্যায় বিচার করবেন। কিন্ত মাননীয় আদালতের প্রদত্ত রায়ে দেশবাসী হতাশ হয়েছে।
১৯৭১ সালে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। এ বয়সের একজন তরুণের বিরুদ্ধে সরকারের আনীত অভিযোগ কত গভীর ষড়যন্ত্রমূলক তা সকলের নিকট স্পষ্ট। যে সব অভিযোগে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সরকার পক্ষ তা প্রমাণ করতে পারেনি। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর মুহাম্মদ কামারুজ্জামান রিভিউ দায়ের করবেন।
ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হলে তার রিভিউ গৃহীত হবে বলে গভীরভাবে বিশ্বাস করেন জামায়াতের এ নেতারা।
এআর/এএইচ





