১৯৫৭ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন ছিল পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের প্রথম স্বাধীনতার ডাক।

কাগমারী সম্মেলন হলো বাংলাদেশের স্বাধীকার ও পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট বলে অভিমত প্রকাশ করে ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া।

তিনি বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মসূচীর আয়োজন করেছিলেন, এর মধ্যে তাঁর অবিস্মরণীয় কীর্তি এবং উপ-মহাদেশের তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আজকের বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হচ্ছে ১৯৫৭ সালের ‘ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন’। উপ-মহাদেশ ও পূর্ব বাংলা তথা আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর তাৎপর্য অনাগত কালের গবেষকদের কাছে স্বীকৃত।

এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া আজ শনিবার বিকালে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৫৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন।

নগর সাধারন সম্পাদক মোঃ শহীদুননবী ডাবলু‘র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন কল্যাণ পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম.এম. আমিনুর রহমান, ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ শাহজাহান সাজু, স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর সহ-সভাপতি শাহ মোঃ শাহ আলম, জিল¬ুর রহমান পলাশ, আবদুল্লাহ আল-মাসুম প্রমুখ।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া চলমান রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির সকল দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারের ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে আজকের এই সংকটের সূচনা হয়েছে। সকল দলের অংশগ্রহন ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গণতন্ত্রের কপালে কলংকের তিলক ল্যাপন করেছে।

তিনি বলেছেন, কাগমারী সম্মেলনের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ব শাসন ও স্বাধীকার আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের জনগনকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেছিল।

কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানী যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছিলেন তা আজো আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, পতাকা-মানচিত্র ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে অনুপ্রেরনা যোগায়।

সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শহীদুননবী ডাবলু বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীকার ও স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে তুলতে মওলানা ভাসানী যে অবদান রেখেছেন-যে সম্মানি তিনি প্রাপ্য ছিলেন স্বাধীনতার ৪৪ বছরের সরকারগুলো তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দিতে ব্যার্থ হয়েছে।

আমাদের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রয়োজনে তাঁকে ব্যবহার করলেও প্রকৃত অর্থে তাকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার কোন কর্মসূচীই গ্রহন করেনি।

এসএইচ