মানুষের সত্যিকার কল্যাণ কিসে আছে শুধুমাত্র মহান আল্লাহ-ই ভালো জানেন। এজন্য আল-কুরআন, হাদিস সহ ইসলামী সব সাহিত্য অধ্যয়নের মাধ্যমেই কল্যাণের প্রকৃত পথ আমাদেরকে চিনতে হবে। আমরা যে সুন্দর ও কাক্সিক্ষত সমাজের স্বপ্ন দেখি, তা সমগ্র মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তার মাধ্যমেই কেবল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। যাকাত ও উশর মূলত সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ঢাকা নগরবাসীকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে কুরআন, হাদিসের এসব বই উপহার দিয়ে আবার এখানে নতুন করে সেই দ্বার উম্মোচন করার ব্যবস্থা করতেই মূলত আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।

সোমবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে পবিত্র মাহে রমাদান উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আল-কুরআন, হাদিস, রমজান, তাকওয়া অর্জন ও যাকাত সম্পর্কিত বই উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় বই উপহার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারীবৃন্দ যথাক্রমে এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, মু. দেলাওয়ার হোসাইন, কামাল হোসাইন, ড. আব্দুল মান্নান, উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হাফিজুর রহমান ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনা সহ ইসলামের অপরিহার্য বিধান গুলো আমাদের মুসলিম সমাজে যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় আমাদের সমাজ অর্থনৈতিক সমস্যামুক্ত হতে পারছে না। সমাজের একশ্রেণির লোকেরা দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, অপরদিকে অন্যশ্রেণি বিত্ত-বৈভবের সীমাহীন প্রাচুর্যতায় ভেসে যাচ্ছে। তিনি কুরআন ও হাদিসের নিদের্শনা বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মহান আল্লাহর বিধান মতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তবেই সুখি সমৃদ্ধশালী, একটি নতুন দেশ সমাজ গড়ার সূচনা করতে পারবো আমরা।

আব্দুস সবুর ফকির বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মাস রহমত, বরকত, নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে চলমান। ইতোমধ্যেই রহমত দশকের অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে এবং আসছে মাগফেরাতের দশক। একজন প্রকৃত মুমিন মুসলমানের সফলতা হচ্ছে কেবল আল্লাহর দেয়া সেই রহমত, বরকত, নাজাত লাভ করা। এ মাস কুরআনের কারণেই এত বেশি মর্যাদার। কুরআনের সুন্দর পরিভাষায় সেই সোনালী সমাজ বিনির্মাণের পথে সকলকে জানার মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, মহান আল্লাহর সরাসরি কথা হচ্ছে যারা জানে আর যারা জানে না তারা সমান নয়। চলতি শতাব্দীর বিজ্ঞান অকপটে শিকার করে নিয়েছে কুরআন তথা ধর্ম ছাড়া কোনভাবেই পথচলা সম্ভব নয়। সুতরাং অতি আধুনিকতার ভাব ধরে যেসব মানুষ সমাজকে নেতৃত্ব দিতে এসেছে তারা বরং দুর্নীতি ও বেহায়াপনার মাধ্যমে জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তাই কুরআন হাদিস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

এমআর