যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র্যালি শহীদদের কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা, দোয়া অনুষ্ঠান, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে ছাত্রশিবির।
কেন্দ্র ঘোষিতএ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাঙ্গালী জাতিই ভাষার দাবী আদায়ে জীবন দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার আদায় করেছে। এই ত্যাগ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ফলে শুধু বাংলাদেশ নয় বরং সারা বিশ্বে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সমাদৃত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলা এখন পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। ভাষাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের মানচিত্রে একটি জাতির অভ্যুদয় হয়েছে, সেই দেশটিও বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলন ও অর্জন বিশ্ব দরবারে জাতিকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। মাতৃভাষার জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের মূল কারণ ছিলো সর্বত্র বাংলা ভাষা চালু করা। এ ভাষায় উঠে আসবে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য, আমরা ভুলতে বসেছি শহীদদের আত্মত্যাগের মূল উদ্দেশ্য। ভাষা দিবসকে অনেক গুরুত্ব দিলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মূল্যায়ন করা হয়নি ভাষা সৈনিকদের। উল্টো ভাষা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমকে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র করে হেনস্থা করা হয়েছে। ফলে তাকে কারা প্রকোষ্টে থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে। অন্যান্য ভাষা সৈনিক, ভাষা শহীদের পরিবারের প্রতিও হচ্ছে দারুন অবহেলা। ভাষা সৈনিকদের আহবান ও দাবীকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় বিজাতীয় সংস্কৃতির আমদানী ও প্রসার করে বাংলা ভাষাকে প্রতিনিয়ত অপমান করা হচ্ছে। যে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্যে তরুণ-যুবক ছাত্ররা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে এসে পুলিশের গুলিতে আত্মদান করেছিল সেটি আজ কতিপয় পরশ্রীকাতরের নগ্ন থাবায় ক্ষত-বিক্ষত। বিকৃতিকারীরা জেনে বুঝে ভিনদেশী ভাষার সাথে আমাদের ভাষার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জগাখিচুড়ি ভাষার জন্ম দেয়ার অপচেষ্টা করছে।
বিদেশী সংস্কৃতির প্রভাবে আগামী প্রজন্মের বিরাট একটি অংশ আজ হিন্দি ভাষায় কথা বলা ও চালচলনে অভ্যস্থ হয়ে উঠছে। এটা জাতির জন্য অশনির সংকেত। এভাবে অপসংস্কৃতির জোয়ার বইতে থাকলে অচিরেই জাতি সত্তার মূল চেতনা হারিয়ে ফেলবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। পরিপূর্ণ ভাষানীতি ও ভাষা আইন প্রণয়ণ করা সময়ের দাবী।
সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষা শুদ্ধ ভাবে শেখা ও বলার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ভাষার বিকৃত রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতেু হবে। একই ভাবে যার যার অবস্থান থেকে বিজাতীয় সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আত্মসম্মান রক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সংস্কৃতির লালন ও বিকাশ ঘটাতে হবে। তাহলেই শহীদের আত্মত্যাগ পূর্ণতা পাবে।
বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী শিবিরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেন
ঢাকা মহানগরী পশ্চিম, চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর, চাঁদপুর শহর , মাগুড়া জেলা, সুনামগঞ্জ জেলা, চট্টগ্রাম জেলা উত্তর, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ। বিজ্ঞপ্তি
এএস





