ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কটা অনেকটা শীতল হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ দিন থেকে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্তারা অনেকটা এড়িয়েই চলছিলেন বিএনপিকে। মোঙ্গলবার হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক এ শীতলতায় উষ্ণতা নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
২০১৩ সালের ৪মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে হরতালের কারণে বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠক বাতিলের পর থেকে এক ধরণের শীতল সম্পর্কই বিরাজ করছিল ভারতের সাথে। যদিও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সোনারগাঁ হোটেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক হওয়ায় অনেকে সেটাকে শীতলতার আবসান মনে করেছিলেন।
কিন্তু পরবর্তিতে স্থানীয় হাইকমিশন পর্যায়ে বিএনপি বা ভারতের পক্ষ থেকে খুব একটা নড়াচড়া চোখে পড়েনি। প্রকাশিতব্য সংবাদ অনুযায়ী গত দেড় বছরে কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির একাধিক মতবিনিময় হয়েছে। যাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিদেশি বিভিন্ন কূটনীতিকরা বিএনপির আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগদান করেছেন। শুধুমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ভারত। প্রায় সব বৈঠকেই অনুপস্থিত ছিলেন তারা।
এমনকি বিএনপির ইফতারের নিমন্ত্রণেও ভারতের হাইকমিশনার অংশগ্রহণ করেননি। সর্বশেষ গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছিলেন। কিন্তু নতুন হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এসেও বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেননি। এবার দীর্ঘ বিরতির পর শ্রিংলা বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আবার এমন একটি সময়ে তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন যখন বিএনপি নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা মনে করছেন, নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিএনপি তাদের ত্রাহী অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে। যদিও কেউ কেউ ব্যতিক্রমও বলছেন। এ সময় শ্রিংলার বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠক কর্মীদের মনে ভরসার রেখাপাত করবে বলেও অনেকে মনে করছেন।
গতকাল রাত ৮টা ১০ মিনিটে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আসেন। এসময় তাকে অভ্যর্থনা জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেহ উদ্দিন। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভাইস চেয়ারম্যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অংশগ্রহণ করেন। রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকের সময় বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বাইরে অপেক্ষা করেন। বৈঠকের শুরুতেই শ্রিংলা আপ্যায়িত হন। বৈঠকটি প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে চলতে থাকে ।
বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে সাবিহ উদ্দিন আহমেদ বলেন এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎকার। দীর্ঘদিন পর বৈঠক হওয়ায় তা লম্বা হয়েছে। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা হয়েছে। এর বেশি তিনি সাংবাদিকদের কিছু বলেননি।
বৈঠকটি দীর্ঘ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান হাইকমিশনার বিএনপি চেয়ারপারসনের আগের পরিচিত। একারণেই একটু দেরি হয়েছে। আর হাইকমিশনারের ব্যস্ততার কারণে তিনি এতদিন দেখা করতে পারেননি।
বিগত বছরগুলোতে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষ দলের সাথে সম্পর্ক রাখার পরিবর্তে দেশের সাথে সম্পর্ক রাখার এক ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। অপরদিকে, ভারতবিরোধী রাজনীতির ধারা থেকেও বিএনপি অনেকটাই সরে এসেছে। এদিকে, সবার অংশগ্রহনে আরেকটি গ্রহনযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এমনই বাস্তবতায় হঠাৎ ভারতীয় হাইকমিশনারের বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দীর্ঘ বৈঠক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের কতটা ইঙ্গিত বহন করছে হয়তো শিগগিরই তা পরিস্কার হবে।

এম এ/কেবি