পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।
শুভেচ্ছা বার্তায় মকবুল আহমাদ বলেন, “এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে খুশীর সওগাত নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দ্বারে সমাগত। ঈদুল ফিতর হলো একমাস সিয়াম সাধনার সমাপনী অনুষ্ঠান। পবিত্র রমযান মাসেই আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াতের জন্য পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। রমযানের দাবি হলো কুরআনের আলোকে একটি তাকওয়া ভিত্তিক ইসলামী সমাজ কায়েম করা। এ ধরনের সমাজেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানবজীবনে সুখ ও শান্তি নিয়ে আসে। এ ধরনের সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চালু হয়। রাসূল (সাঃ) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আদলে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষ সেখানে সত্যিকারভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, দেশবাসী এমনি এক সময়ে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করতে যাচ্ছে যখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অশান্তি বিরাজ করছে। আমাদের দেশের জনগণ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অস্থিরতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, গ্রেফতার অভিযান, জুলুম, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংকট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে কালাতিপাত করছে।

জামায়াত আমির বলেন, সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রশিবিরসহ ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতা-কর্মী ও আলেমদের গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অবস্থায় পরিপূর্ণ আনন্দের সাথে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় একমাত্র ইসলামী আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই জুলুম-নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই ইসলামী সমাজ কায়েমের জন্য প্রচেষ্টা চালানো আমাদের সকলের কর্তব্য। আমি দেশবাসী সকলের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছি এবং সেই সাথে সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।”
ইআর