বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেছেন, আদর্শহীন আওয়ামী অবৈধ সরকার জামায়াত-শিবিরের উপর নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালাচ্ছে। একদিকে পুলিশকে সেবাদাসের মত ব্যবহার করে সারাদেশে নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের নাটক সাজিয়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যার চেষ্টা করছে। এরপরও জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক অহিংস আন্দোলন করে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার এ অহিংস আন্দোলনকে দূর্বলতা মনে করেছে। সরকার যদি জুলুম নিপিড়ন ও বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ না করে তাহলে তাদের জানা উচিৎ যে কোন সময় দূর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষমতা জামায়াত-শিবিরের আছে।

তিনি মঙ্গলবার ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রাজধানীর এক মিলনায়তনের সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমানের পরিচালনায় বৈঠকে সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।      

তিনি বলেন, সরকার জামায়াতকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই নির্ধারিত ছকে, সাজানো, পাতানো ও ষড়যন্ত্রের বিচারের মাধ্যমে শীর্ষ নেতাদের হত্যা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যেই ইসলামী আন্দোলনের বীর সেনানী শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের ইতিহাসকে রক্তাক্ত ও কলংকিত করা হয়েছে। বিতর্কিত করা হয়েছে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে। ফলে মানুষের আশ্রয়ের শেষ ভরসাস্থল বিচার বিভাগের উপর গণমানুষের আস্থা এখন শূণ্যের কোঠায়।

একইভাবে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দতে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। যথেষ্ট শক্তি থাকার পরও জামায়াতে ইসলামী অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দূর্বলতা মনে করেছে।

তিনি সরকারকে উদ্দেশে  বলেন, ইসলাম প্রিয় ছাত্র-জনতার ধৈর্য্যে নিয়ে খেলা করবেন না। ট্রাইব্যুনাল ও আদালত ন্যায়ভ্রষ্ট  এবং তারা আপনাদের ইচ্ছার প্রতিফলন করছে তাতে কারো সন্দেহ নেই। সুতরাং নাটক করে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র দেশ বিদেশের কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নেয়নি এবং নিবেও না। অবিলম্বে এ জাতি বিনাশী অপতৎপরতা পরিহার করে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিন। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যে কোন সময় সর্বাত্মক প্রতিরোধ আন্দোলনে রুপ নিবে। আর সেই প্রতিরোধ আন্দোলনে টিকে থাকার ক্ষমতা আপনাদের থাকবেনা।  

জেআই