২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ স্প্যান বসে যাওয়ার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে পদ্মাসেতু হাতছানি দিচ্ছে পুরোদমে চালু হওয়ার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সেতুটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা তো রাখবেই, সেই সঙ্গে নিজেদের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের যে অভিজ্ঞতা অর্জন করল বাংলাদেশ, তাতে আগামীতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে সক্ষমতা অর্জনে।

প্রমত্তা পদ্মাকে জয় করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ১৭ কোটি মানুষের স্বপ্নের সেতু পদ্মা। টানা আট বছর নদীর বুকে ইস্পাত-কনক্রিটের প্রতিনিয়ত যুদ্ধ, কত শত চ্যালেঞ্জ আর শঙ্কাকে পেছনে ফেলে উঠে এসেছে, আস্থা আর ভরসার কেন্দ্রে।

অঙ্কের হিসাবে ৩০ হাজার কোটি টাকা হয়তো ছাড়িয়ে গেছে অনেক হিসাবেকেই; কিন্তু তার চেয়েও বড় অর্জন আস্থা আর আত্মবিশ্বাসের বিচারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের সঙ্গে এই প্রকল্পের মাধ্যমে এমন সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশ, যা কিনা বড় সম্পদ হয়ে থাকবে ভবিষ্যতের জন্য।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, এই সেতু দেশে যারা ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে কাজ করে, সবার মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের নির্দেশনায় অন্যরা পদ্মাসেতু তৈরির কাজ করেছে।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, নিজ অর্থায়নে করা আর নিজের ব্যবস্থাপনায় করা, এটা একটা কঠিন কাজ। যে বার্তাটা সব দিকে চলে গেল, আমরাও পারি, আমরাও পারব।

পারস্পরিক সহযোগিতা আগামীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার অন্যতম উপায় হলেও নিজেদের সক্ষম করে গড়ে তোলাও সমান জরুরি বলছেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলছেন, পদ্মাসেতুই দিলো সেই শিক্ষা।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আত্মবিশ্বাসের জায়গা তৈরি করেছে। বাইরে থেকে যদি অর্থায়ন পাওয়া না যায়, তাহলে আমরা নিজস্ব চেষ্টায়, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়, নিজস্ব অর্থে বড় ধরনের প্রকল্প করতে পারি।

পদ্মাসেতুর এমন সব অভিজ্ঞতা, আগামীর সক্ষমতার বাংলাদেশ গড়ে ওঠার পথে অন্যতম উপায় হয়ে থাকবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

যেকোনো বড় প্রকল্প দেশের অর্থনীতির জন্য কাজ করে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে। তবে পদ্মা সেতুর বেলায় এই হিসেবটা অনেকখানি এগিয়ে। বলা হচ্ছে, এই সেতু চালু হলে কেবল ভৌগলিক দুরত্বই কমবে না, বরং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মানুষ যুক্ত হবে দেশের মূল অর্থনীতির সঙ্গে।

এবিএস