বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ভিসি (উপাচার্য) অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জড়িত বলে দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতৃত্বের ব্যানারে ‘বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে’ আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্না।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আব্দুর রবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আমানুল্লা আমান, ডাকসুর সাবেক জিএস বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, এজিএস নাজিম উদ্দিন আলমসহ ডাকসুর সাবেক নেতাকর্মীরা।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আবরার ফাহাদকে হত্যার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জড়িত। ছাত্রলীগ ফাহাদকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় ভিসিকে বলা হলেও তিনি হলে আসেননি।

কোনো পদক্ষেপও নেননি। ছাত্রটি মারা যাওয়ার পরও আসলেন না। জানাজাতেও আসলেন না। অনেক পরে তিনি কুষ্টিয়াতে গেলেন কবর জিয়ারত করতে। তাই এই পাষণ্ড ভিসির অপসারণের দাবি জানাই।

তিনি বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটের মধ্যে আছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে এমনটা হয়নি। আজ এমন অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আছে, যারা জনগণের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। এরা মানুষ তৈরি করতে জানে না।

একটি মেধাবী ছাত্র রাজনীতি করতে ছাত্রলীগে গেলে খুনি হয়ে বের হয়। ছাত্রলীগ মানে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করো। হত্যা করো। র‌্যাগিং করো, গণরুমে মেধাবীদের রেখে দাও।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, এই সরকারে শাসনামলে গণতান্ত্রিক অধিকার ভুলুন্ঠিত হয়েছে। অন্যথায় দেশের গণতন্ত্র কখনোই মুক্ত হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মান্না বলেন, দেশজুড়ে ছাত্রলীগের নির্যাতন চলছে। আবরার হত্যার প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ হবেই বলে জানান তিনি।

জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন,দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লেখার মাধ্যমে প্রতিবাদ করার কারণে সরকার পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

ফাহাদকে নয়, তাকে হত্যার মাধ্যমে পুরো জাতিকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার দায় স্বীকার করে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত। বিরোধীমত দমনই আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা।

এএস