১০ তলা বাড়ি থেকে ২০ তলা বাড়ি হচ্ছে তাদের। কিন্তু দেশের কী হচ্ছে? সময় থাকতে কেটে পড়েন- না হলে পালানোর জায়গা পাবেন না’

শনিবার (২৬ নভেম্বর) কুমিল্লার টাউন হল মাঠে বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৮ সালের রাতের ভোট এবার কি আপনারা চান? না চাইলে ১০ ডিসেম্বর আসুন। আমরা নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনও নির্বাচনে যাচ্ছি না। নির্বাচন হবে কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকারের হাতে। আপনার মন্ত্রীরা মন্ত্রী থাকবে, আপনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন- আর নির্বাচন দেবেন, তামাশা পেয়েছেন?’

তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ বলে আগে জানলে ভাঙা নৌকায় উঠতাম না। মানুষ নৌকায় উঠে ভুলের মাশুল দিচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ সব কিছুর আকাশ ছোঁয়া দাম। এই সরকার মানুষের স্বপ্ন লুটে খেয়েছে। এ জন্য বলি, মানুষ না খেতে পেরে রাস্তায় নেমেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীন হতে ৭১ সনে একবার যুদ্ধ করেছি। এখন আবার যুদ্ধ করতে হচ্ছে ভোটের অধিকারের জন্য। আমরা আরেকটা ৭১ আনবো। এবারের যুদ্ধ হবে ভোট চোর, কম্বল চোরের বিরুদ্ধে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অনেক মন্ত্রীরা দেখি, কী কী জানি বলে। আপনারা বলেন, আওয়ামী লীগ নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন করলে কী জামানত থাকবে? শোনেন, এই সাধারণ মানুষকে নিয়ে যেমন খুশি তেমন আর করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘শুনেছি, ১৫ দিনে নাকি রাজশাহীতে ৩৫ মামলা হয়েছে। সব গায়েবি মামলা। ১০ ডিসেম্বরের আগে এমন বহু গায়েবি মামলা হবে। এদের (সরকারের) চামড়া গণ্ডারের মত। সব করে তারা দোষ দেয় বিএনপির। তারা বলে, আমরা নাকি অগ্নিসন্ত্রাস করবো। শুনুন, অগ্নিসন্ত্রাস করতে গিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ধরা খেয়েছে বিএনপি নয়।’

ফখরুল বলেন, ‘১০ বছরের এই লুটেরা সরকার খেয়েছে ৮৬ লাখ কোটি টাকা। আর এক বছরে বিদ্যুতের নামে খেয়েছে ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এগুলা কে খেয়েছে? বিএনপি? শোনেন পত্রিকায় দেখলাম, গণসমাবেশে সাধারণ মানুষ যাচ্ছে। আচ্ছা এটা কী অস্বাভাবিক কিছু? মানুষ এখন নিরুপায়। তারা নাকি আমাদের পূর্বাচলে পাঠাবে, তারপর আরেকটু এগিয়ে আসলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আমরা বলি, আরেকটু এগিয়ে আসুন। তাছাড়া উপায় নাই। এগিয়ে আসতেই হবে। ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ পল্টনেই হবে। সব ফয়সালা রাজপথে হবে। গুম, খুন হত্যা, নির্যাতন সব কিছুর বিচার হবে- বাংলার মাটিতেই হবে। এ দেশের মানুষ করবে।’

দেশ থেকে ৮৬ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের ট্রেজারি খালি করে দিয়েছে, ফোকলা করে দিয়েছে। তিনি একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, গত ১০ বছরে দেশ থেকে ৮৬ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। গুম, খুন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে এ গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

প্রায় আধা ঘণ্টার বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আর কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া, কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়া ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে,’ বলেন তিনি।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদেরকে ’৭১ সালের মতো আরেকটি যুদ্ধ করে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিনের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রমুখ।

ক্ষমতায় এলে কুমিল্লা নামেই বিভাগ করব: ড. খন্দকার মোশাররফ

আমরা ক্ষমতায় এলে কুমিল্লা নামেই বিভাগ প্রতিষ্ঠা করব জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এই দেশের জনগণ এই সরকারকে আর দেখতে চায় না। আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে এই সরকারের বিদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করব। আপনারা এই সরকারকে বিদায় করতে প্রস্তুত থাকবেন। এই সরকারের সময় শেষ। তারাও বুঝতে পারছে, আগমী দিনে বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ।

শনিবার কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বিএনপির গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে বিএনপির এই গণসমাবেশ শুরু হয়।

ড. মোশাররফ বলেন, আজকে যারা সরকারে আছে, তারা বিনাভোটে সরকারে আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। গত ১৪ বছরে শুধু সংসদই নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সারা দেশে ৬০০ গুম, ১০০০ বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। আজকে সমাবেশে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ এর বেশি মামলা করেছে, যাতে সমাবেশ সফল করতে না পারি। সরকারের লুটপাটের কারণে ২০ শতাংশ সীমা থেকে ৪০ শতাংশে উঠে গেছে।

এছাড়া খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, বিচার বিভাগকে এই সরকার ধ্বংস করেছে। তারা গায়ের জোড়ে ক্ষমতায় টিকে আছে। র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এটা বাংলাদেশের জন্য হুমকি। এই সরকার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে পারবে না।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বানচাল করার জন্য নয়নকে হত্যা করেছে। আপনারা সকল ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে আপনার সমাবেশ সফল করার জন্য আপনারদের অভিনন্দন জানাই, ধন্যবাদ জানাই।

কুমিল্লার জনগণ কুমিল্লা নামেই বিভাগ হিসেবে দেখতে চায়। আমরা যদি আগামীদিনে ক্ষমতায় আসতে পারি, ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা নামেই বিভাগ প্রতিষ্ঠা করবো।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি, নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মীদের মৃত্যুর প্রতিবাদে সারা দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে এ গণসমাবেশ করছে বিএনপি।

প্রতিটি মানুষের চোখে এখন আগুন : মির্জা আব্বাস

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আজ শনিবার বিএনপির গণসমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি : এনটিভি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, নয়নকে প্রচারপত্র বিতরণকালে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের চোখে আমি আগুন দেখছি। প্রতিটি মানুষের চোখে এখন আগুন দেখছি।

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আজ শনিবার বিকেলে বিএনপির গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিএনপির এই গণসমাবেশ শুরু হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, শেখ হাসিনা সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা বিএনপির সমাবেশের জবাব দিতে চায়। তারা যশোরে সমাবেশ করেছে। আজকের এই সমাবেশ আওয়ামী লীগের সকল সমাবেশের জবাব দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের একটা সমাবেশ হয়েছে। কর্মীরা দেওয়াল টপকে বের হয়ে গেছে। আমাদের কর্মীরা কখনও দেওয়াল টপকে বের হয়ে যায়নি। আমাদের নেতাকর্মীরা যে কোনো পরিস্থিতি ট্যাকেল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা কোনো ভয় পায় না। রক্ত চক্ষু নিয়ে সরকারের বাধা মোকাবিলা করে আসছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ইসলামী ব্যাংকের টাকার লুট করে নিয়ে গেছেন। কীভাবে দুর্ভিক্ষ বাঁচাবেন। টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন। এবার দেশের জনগণ প্রস্তুত হয়ে গেছে। এই দৈত্যকে সরাতে হবে। যতদিন তারা ক্ষমতায় থাকবে, ততদিনে দেশের মানুষের সব খেয়ে ফেলবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি, নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মীদের মৃত্যুর প্রতিবাদে সারা দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে এ গণসমাবেশ করছে বিএনপি।

এন/ইউ/শো