চিকিৎসার জন্য আগামী সপ্তাহে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে যেতে পারেন। দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে ১৪-১৫ সেপ্টেম্বর বেগম জিয়ার লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রার কথা রয়েছে। ওই সূত্রটি আরও দাবী করছে সেখানে সপ্তাহ খানেক অবস্থান করে আবার ঈদের আগেই দেশে ফিরবেন তিনি।
গত আগস্ট মাসে তাঁর লন্ডন যাত্রা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ১১, ১২ ও ১৩ আগস্টের যেকোনো দিন চোখের চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া লন্ডন যাবেন। ওই সময় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকের কাছে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাঁর চোখের চিকিৎসার কথা জানিয়ে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি প্রধানের লন্ডন যাত্রা স্থগিত করা হয়। তবে কি কারণে তাঁর লন্ডন সফর বাতিল করা হয়েছিল, দলের পক্ষ থেকে তা খোলাসা করা হয়নি।
এদিকে গতকাল (১০ সেপ্টেম্বর) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট -সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা শুনানীকালে তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া খালেদা জিয়ার চিকিসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন। এবং মামলা দুটি পরবর্তী শুনানীর তারিখের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রার্থনা করেন। তখন আদালত বলেন- আদালতের বর্তমান শুনানীতে তাঁর (খালেদা জিয়ার) উপস্থিতি খুব জরুরী নয়। উনি তো গত দুটি তারিখে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। যার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তেমন জোরালো আবেদন করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ঈদের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। আমি এমনটিই জানি। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারছি না। ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানীর বিষয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী শুনানীর তারিখে আদালতে বেগম জিয়ার উপস্থিত থাকা জরুরি নয়।
খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানিয়ে টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ম্যাডাম তো গত মাসেই চিকিৎসার জন্য লন্ডন যেতে চেয়েছিলেন। তবে নানা কারণে সেই সফরটি স্থগিত করা হয়েছিল। এটি তাঁর ব্যক্তিগত সফর। তিনি সেখানে চোখের চিকিৎসা করাবেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘চিকিৎসার জন্য’ দীর্ঘ সময় ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাই খালেদা জিয়ার সম্ভাব্য লন্ডন সফর নিয়ে শুরু থেকেই দেশের রাজনৈতিক মহল ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কৌতূহল আছে। কারণ, দীর্ঘদিন পর সেখানে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতৃত্বের দেখা হবে। তাই এই সাক্ষাতে বিএনপি পুনর্গঠন, দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিল ও সরকার বিরোধী আন্দোলনের কৌশলসহ নানা বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হতে পারে।
এছাড়াও রমজানের পর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠন শুরুর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেটির দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন- খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের পরই পুরোদমে সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এমএইচ





