ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ও চট্টগ্রাম কলেজসহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ধারাবাহিক সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদ এবং ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে আগামী ২১ ডিসেম্বর সোমবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রশিবির।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির বিষয় জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে হাজারো ছাত্র-ছাত্রীর জীবনকে জিম্মি করে রেখেছে। এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক নৃশংসতায় ক্যাম্পাস গুলো বার বার রক্তাক্ত হচ্ছে। আজও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে একে অন্যর উপর হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ে যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রকাশ পেয়েছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৭জনসহ ১১ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিহ্নিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। যা চরম দায়িত্বহীনতা ও সন্ত্রাসীদের প্রতি নতজানুমূলক আচরণ।

সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ বহিঃরাগত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে পুলিশ ও প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে নিরাপরাধ ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে। মূলত ক্যাম্পাসে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নিত্যদিনের কাজে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগ ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলা ও তান্ডব চালিয়ে রাবি, চবি, ইবি, ঢাবিসহ দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাস সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করেছে। খুন,জখম করছে নিজ দল ও প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মীদের। কিন্তু দু:খ জনক ভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে মদদ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে অবৈধ সরকার। পুলিশ প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সামান্য অজুহাতে অন্য ছাত্রদের ব্যপারে কঠোর আচরণ করলেও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের ব্যপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বরং ব্যর্থতা ঢাকতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিচ্ছেন।

সরকার, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনের এই দায়িত্বহীন ভূমিকা মূলত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নৃশংসতার চালানোর লাইসেন্স দেয়ার শামিল। সন্ত্রাসীদের তোষন নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র-শিক্ষক সবার জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের এই যৌথ নৈরাজ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পায়তারা ছাড়া কিছু নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে তাদের উচিৎ পদত্যাগ করা।

বিবৃতিতে অবিলম্বে চিহ্নিত অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা, বিশ্ববিদ্যালয়েরর বন্ধ হল খুলে দেয়া, নিরীহ ছাত্রদের মুক্তি ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবী জানান নেতৃবৃন্দ।
এমএইচ