সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়নি অভিযোগ করে তার পক্ষে যুক্তিতে খালেদা জিয়াকে কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির পরামর্শক এমাজউদ্দিন আহমেদ।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের প্রচারের দায়িত্বে থাকা ‘শত নাগরিক কমিটি’র প্রধান এমাজউদ্দিন শুক্রবার রাজধানীতে এক সভায় একথা বলেন।
বিএনপিপন্থি এই পেশাজীবী নেতা বলেন, “এখনও দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ আছেন।”
সিটি নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগের জন্য বিএনপি নেতাদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
এমাজউদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্যে বলেছেন- তিনি ‘সমতল’ বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। তার বক্তব্যের উত্তরে বলব- একজন ভোটার যখন নিজের ইচ্ছেমত নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন, একজন প্রার্থী যখন নির্বিঘ্নে ভোটারদের কাছে যেতে পারবেন, সভা-সমাবেশ করতে পারবেন সেটা হবে নির্বাচনের সমতল মাঠ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে কোনো এলাকায় কোনো প্রার্থীকে বাধা না দেয়।”
গত তিন মাসের অবরোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও হাতবোমা বিস্ফোরণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নাশকতার এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতাদের অনেককে আসামি করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বিএনপির এই নেতাদের অধিকাংশই এখনো প্রকাশ্যে বের হননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দিন বলেন, “চরম দুঃসময়েও খালেদা জিয়া সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে সায় দিয়েছেন।
“এই নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনার মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে হবে।”
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘জিয়া কল্যাণ পরিষদ’ আয়োজিত ও আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার অনৈতিক ও জনসমর্থনহীন। গণতন্ত্রের পক্ষের প্রার্থীদের পক্ষে শত নাগরিক কমিটির লোকেরা ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে যাবে।
“শুধু শত নাগরিক কমিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের গণতন্ত্রকামী সব পক্ষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। চট্টগ্রামে ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হয়েছে, ঢাকায় প্রয়োজনে এক হাজার এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করতে হবে।”
এই নির্বাচন সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ।
“নির্বাচনের মাধ্যমে তিন সিটি করপোরেশনকে নিজের দখলে আনতে হবে। বিজয় নিশ্চিত করতে না পারলে সামনে আরও ভুগতে হবে। কোথাও কোনো অন্যায় চিহ্নিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। তরুণদের এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে,” বলেন তিনি।
জিয়া কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক রাহিজা খানম ঝুনুর সভাপতিত্বে সিটি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।
জেআই





