এর আগে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজির হন নেতাকর্মীরা। এখনও নেতাকর্মীরা আসছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউট মাঠ পূর্ণ হয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফরিদপুর শহরের প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিভাগীয় এই গণসমাবেশের একদিন আগে থেকে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে বাস ও মিনিবাস ধর্মঘট। এতে ফরিদপুরের সঙ্গে সারাদেশের পরিবহন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নেতাকর্মীরা পায়ে হেঁটে, নসিমন, ইজিবাইককে সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন।
ট্রলারে করে শিবচর থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা রেজাউল করিম বলেন, আমাদের ভাড়া করা বড় ট্রলার বাধা দেয় শিবচরের স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। পরে ওই ট্রলার রেখে অন্য ট্রলার ভাড়া করি। বড় ট্রলারে রাখা আমাদের খাবারগুলোও আনতে পারিনি। শত বাধা পেরিয়ে আমরা সমাবেশে এসেছি। সফল করে যাবো।
মাদারীপুর থেকে আসার দলটির আরেক নেতা বলেন, কিছু পথ ইজিবাইকে, কিছু পথ অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে এসেছি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলে সেখানে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নেন। দুদিন ধরে তাদের অনেকে খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করেছেন।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন, সমাবেশস্থলের ১০ কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা যায়, সড়কপথে ফরিদপুরে ঢোকার পথ তিনটি। একটি ভাঙ্গা হয়ে, আরেকটি গোয়ালন্দ মোড় হয়ে, অন্যটি মধুখালীর কামারখালী হয়ে। ধর্মঘটের কারণে এ তিন পথই বন্ধ রয়েছে। যদিও এই তিন পথের মধ্যে ভাঙ্গা হয়ে বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং গোয়ালন্দ ও কামারখালী হয়ে মাগুরা, খুলনা, যশোরসহ দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বাস চলছে। কেবল ফরিদপুরে কোনো বাস যাচ্ছে না।
ধর্মঘটের কারণে ফরিদপুরে থাকা মহাসড়কে ছোট বড় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমনকি আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস-মিনিবাসও চলছে না। বন্ধ আছে বিআরটিসির পরিবহণও। ফরিদপুরের আশপাশের জেলা থেকে কেউ ঢুকতে পারছেন না এই জেলায়। তবে বাস না থাকায় বিকল্প পথে অনেককে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ মহাসড়কে সব ধরনের থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক বন্ধের দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৩৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর আগে গত ৭ নভেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়ে বাস ধর্মঘটের আলটিমেটাম দেয় জেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নাসির স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ১০ নভেম্বরের মধ্যে মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। দাবি মানা না হলে পর দিন সকাল ৬টা থেকে ১২ নভেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৮ ঘণ্টা সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আজ (১২ নভেম্বর) ফরিদপুরে দলটির বিভাগীয় গণসমাবেশ যেন সফল না হয়, তাই সরকার ষড়যন্ত্র করে ধর্মঘট ডেকেছে। তবে কোনোভাবেই বিএনপিকে দমানো যাবে না। যদিও পরিবহণ নেতাদের দাবি, ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং মহাসড়ক নিরাপদ করতে যৌক্তিক দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন তারা।
এর সঙ্গে ফরিদপুরে বিএনপির শনিবারের গণসমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।
এন/ইউ/শো





