ব্যাংকিং খাতসহ সকল সেক্টরে লুটপাট করে ধ্বংসের পর এবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, দুর্নীতির ব্যাপ্তি বাড়ানোর জন্যই বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। জনগনের দুর্ভোগ বাড়বে। কৃষি ও শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন খাত ও ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।

ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা থাকায় গ্যাস-বিদ্যুতের বর্তমান মূল্যই সব ব্যবসায়ী দিতে পারছেন না। অনেকেই বিলখেলাপি হচ্ছেন। এখন আবার মূল্য বৃদ্ধি হলে খেলাপি গ্রাহক আরো বাড়বে। শিল্পকারখানা বন্ধ হবে। গত ৫ বছরে ৬ বার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে সরকার।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম কমছে, তখন তার কোনো সুফলই বাংলাদেশের জনগন পাচ্ছে না। বরং সেই তেল দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা জনগনের সাথে তামাশার শামিল। সরকার তার গণবিরোধী ভূমিকায় অনড় রয়েছে।

দুর্নীতির ব্যাপ্তি বাড়ানোর জন্য সরকার বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক। সব ধরনের প্রাপ্ত উপাত্ত বিদ্যুতের মূল্য কমানোর দাবী জোরালো হওয়া সত্ত্বেও উল্টো বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ কেন?

সরকার কি কারণে এটা ভাবতে পারে। আমাদের দেশের লুটেরা গোষ্ঠীর সিন্ডিকেট সদস্যরা অনৈতিক ও অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে জোর করে সবকিছু জনগণের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। তারা এসব সহজ-সরল হিসাব আড়াল রেখে দর নির্ধারণের বিষয়টি জটিল থেকে আরো জটিলতর করে প্রচার করে বেড়াচ্ছে।

এরা নিরীহ জনতাকে মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করে বিদ্যুতের দর তিন-চার গুণ বাড়িয়ে দীর্ঘদিন অনৈতিকভাবে লুণ্ঠন করে আসছে। বিদ্যুতের দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সম্ভবত দুর্নীতির শীর্ষ স্থানীয় উদাহরণ।

নেতৃদ্বয় গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবী জানিয়ে বলেনে, জ্বালানি তেলের মূল্য যখন সারা বিশ্বে কমছে, তখন দেশে এই তেলভিত্তিক বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। আর এই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়বে।

অন্যদিকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি হলে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পাবে, ফলে সমাজে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। কৃষক-ব্যবসায়ীরা সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকহারে কমেছে। এর সুফল পাচ্ছে দেশগুলো। কিন্তু বাংলাদেশে অবস্থা ভিন্ন। উৎপাদন খরচ কমলেও সরকার দাম বৃদ্ধি করছে। যার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে রমরমা ব্যবসা চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিটি চুক্তির ভেতর ভয়াবহ দুর্নীতি আছে। এজন্য এসব চুক্তি প্রকাশ করা হয় না। সার্ভিস চার্জের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে এ খাত থেকে।

এমবি