ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেছেন, অবৈধ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করেছে। আর সেই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পুলিশ দিয়ে নিরপরাধ ছাত্রজনতাকে হত্যা করছে। ঝিনাইদহে গণহত্যার নৃশংসতা দেখছে দেশবাসী। মূলত ঝিনাইদহতে কিলিং মিশনে নেমেছে সরকার।

বুধবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শিবির সভাপতি বলেন, অবৈধ সরকার ও তাদের সেবাদাস পুলিশ যৌথভাবে দেশে একের পর এক বর্বরতার নজির স্থাপন করে চলেছে। একদিকে গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় স্তম্ভগুলো ধ্বংস করছে অন্য দিকে শহর, বন্দর ও গ্রাম প্রতিটি জনপথে সুপরিকল্পিতভাবে নির্বিচারে ছাত্রজনতাকে হত্যা করে চলেছে।

সম্প্রতি ঝিনাইদহে গণহত্যা সংগঠিত করেছে অবৈধ সরকার। সেখানে অল্প সময়ের ব্যবধানে মাদ্রাসা শিক্ষক আবু হুরায়রা, শিবির নেতা আবু যর গিফারি ও শামিম হোসেনকে আটকের পর গুম করে হত্যা করেছে পুলিশ। বিগত সময়গুলোতে ঝিনাইদহে পুলিশ পরিচয়ে ২৭ জনকে অপহরণ করার পর ২৩ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এক মাসের ব্যবধানে পুলিশ ৪ জনকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, বুধবার গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে ১০ দিন পর ঝিনাইদহে কলেজ ছাত্র সোহানুর রহমান সোহানকে খুন করে চুয়াডাঙ্গার মাঠে ফেলে রাখে পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, সরকার পরিকল্পিত গণহত্যার মাধ্যমে ঝিনাইদহকে এক মৃত্যু উপত্যকাতে পরিণত করেছে। খুনের নেশায় ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে এই জালিম সরকার। এর আগেও সাক্ষীরা, গাইবান্ধা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিত ভাবে কিলিং মিশন পরিচালনার মাধ্যমে অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে খুন করেছে সরকার।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যে কোনো সংকট মোকাবেলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। জাতির প্রয়োজনে যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমরা বাতিল শক্তিকে এই বার্তাই দিতে চাই, যতই হত্যা নির্যাতন করা হোক না কেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য থেকে এক চুল পরিমাণ পিছু হটবে না। ছাত্রশিবিরের ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ত্ব বিরোধী সকল অপতৎপরতা রুখে দিতে বদ্ধপরিকর।

কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত, এইচ আর ডি সম্পাদক শাহীন আহাম্মদ খান ও মানবাধিকার সম্পাদক শাহ মো. মাহফুজুল হক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তি

এম আর