সারাশহর জুড়ে আলোকসজ্জা, ব্যানার ফেস্টুন, বিলবোর্ড, ভিডিও প্রেজেন্টেশন আর সরকারের শতশত উন্নয়নের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে আওয়ামী লীগের দলীয় সম্মেলনের বাজেট যদিও ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। মোট খরচ আসলে কত? আর কোটি কোটি টাকা খরচে এত বিশাল সম্মেলনের খরচ বছর বছর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আওয়ামী লীগের আয় ব্যয় হিসাবের সাথে কী সামঞ্জস্যপূর্ণ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ তাদের সম্মেলনের জন্য যে আড়াই কোটি টাকার বাজেটের কথা বলেছিল তা পেরিয়ে কমপক্ষে আট থেকে দশ কোটি টাকায় ঠেকেছে। এসব খরচের সাথে তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর রাজধানীতে আসা, থাকা খাওয়ার খরচ যোগ করলে তা আরও বাড়বে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে দল পরিচালনায় আয়-ব্যয়ের হিসাব বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের তহবিলে উদ্বৃত্ত রয়েছে তিন কোটি ৩৮ লাখ টাকা। গত বছর তাদের আয় হয়েছে ৭ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ টাকা। এ সময় তাদের ব্যয় দেখানো হয়েছে তিন কোটি ৭২ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৯ টাকা। এ বছর দলটির খরচের সাথে অন্যান্য বছরের হিসেব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইসিতে জমা দেওয়া দলের বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসেব থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আয় ছিল ৯ কোটি পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৩ টাকা। ব্যয় ছিল তিন কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা। ২০১৩ সালে আয় ছিল ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ব্যয় ছিল ছয় কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২০১২ সালে দলটির আয় ছিল ১০ কোটি ছয় লাখ টাকা। ব্যয় ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন বলেন, এতো বর্ণাঢ্য করা, এতো টাকা পয়সা খরচ করা, সারা ঢাকা শহরকে ডিলেমিনেশন করা এটা আমি খুব ভালো মনে হয়নি। এটা আমার কাছে ভালো লাগেনি। আমি এটা ভালো মনে করি না।
তিনি বলেন, এই সম্মেলনে হয়ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যা চোখে লেগেছে। এটা ভালো হয়নি।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই কাউন্সিল এরকম করতে হবে কেন? আগে তো এরকম ছিল না। ১৯ তম কাউন্সিলও এরকম হয়েছে বলে আমার তো মনে পড়ে না।
এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কথা বলার কোনো ইচ্ছে নেই।
ইসিতে ২০১৫ সালের আয় ব্যয়ের হিসাব থেকে জানা যায়, দলটির ফান্ডে ২৩ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টাকা জমা আছে।
এমবিএইচ





