টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলায় মায়ের সামনে ছেলেকে এবং ছেলের সামনে মাকে বিবস্ত্র করে তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনকারী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শণকারী বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত ও প্রায় অর্ধশত লোক আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি জনাব হামিদুর রহমান আযাদ।
আজ বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ নিন্দা জানান।
প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “টাঙ্গাইলের কালিহাতির ঘটনার দ্বারাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির এক জ্বলন্ত প্রমাণ হলো, টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার ঘটনা। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস না থাকার কারণেই জনগণ অসামাজিক কাজে লিপ্ত দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিতে মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছে।
মার সামনে ছেলেকে এবং ছেলের সামনে মাকে প্রকাশ্য দিবালোকে বিবস্ত্র করে অত্যাচার-নির্যাতন চালানোর মত বর্বর, অশালীন এবং অসামাজিক ও অমানবিক কাজ আর কি হতে পারে? গত বুধবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার কৃষি উন্নয়ণ করপোরেশনের একজন সরকারী কর্মকর্তার হাত কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ সব ঘটনার দ্বারাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, দেশের জনগণের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। এ অবস্থায় কোন দেশ চলতে পারে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলায় সংঘটিত বর্বর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রকাশ্য দিবালোকে মা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের সাথে সাথে তিন জন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা ও অর্ধশত লোককে আহত করার ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
আমি পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
সেই সাথে নিহতদের পরিবার-পরিজন এবং আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
এসএইচ





