গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গণসংহতি আন্দোলনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। এসময় পুলিশের সঙ্গে গণসংহতির নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের পাশে সচিবালয়ের ৫নং গেট সংলগ্ন রাস্তায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় গণসংহতি আন্দোলনের ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে গণসংহতির আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এরপর তারা সচিবালয়ের ৫নং গেট সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’

আহতরা হলেন— গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য জান্নাতুল মরিয়ম তানিয়া, ছাত্র ফেডারেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার যু্গ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দেব নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্য মিনহাজুল নাহিদ ও ঢাকা মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিমালয় হিমু।

ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিলে সচিবালয়ের ৫নং গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে গণসংহতি আন্দোলন।

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘সরকার স্বৈরাচারী সরকারে পরিণত হয়েছে। জনগণকে তাদের যৌক্তিক আন্দোলন পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। সাংবিধানিকভাবে এ সরকার স্বৈরাচার।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে তাহলে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে আমরা গণশুনানি ঘেরাও করব। আর তাতেও কাজ না হলে হরতাল ডাক দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবারই বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগে লোক দেখানো গণশুনানি হয়। কিন্তু এ শুনানিতে সাধারণ মানুষের মত না নিয়েই সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।’

গ্যাস-বিদ্যুতের অযৌক্তিক দাম বাড়ানোর থেকে সরকার সরে না আসা পর্যন্ত জনগণকে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সাকি।

গণসংহতি আন্দোলনের জ্বালালি মন্ত্রণালয় ঘেরাও প্রসঙ্গে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. ইব্রাহীম খান বলেন, ‘তারা যৌক্তিক দাবি পেশ করতেই পারে। তবে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে অনুযায়ী আমাদেরও অবস্থান নিতে হয়।

জেআই