পুলিশি বাধায় কুষ্টিয়ায় প্রবেশ করতে পারেনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করা এবং জেলা বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করতে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। এরপর কুষ্টিয়ায় প্রবেশ করতে না পেরে ঢাকায় ফিরে গেছেন নেতৃবৃন্দ।

রোববার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা অংশের টোল প্লাজা থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

জানা যায়, আমান উল্লাহ আমানের গাড়ি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা টোল প্লাজায় পৌঁছায়। সেখান থেকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুলিশের বাধায় গাড়িটি পুনরায় ঢাকার অভিমুখে ফিরে যায়।

এসময় বিএনপি নেতারা বলেন, “কুষ্টিয়া লালন শাহ সেতুতে পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে। আমরা জাতিকে জানাতে চাই আবরার জাতির সম্পদ।”

আমান উল্লাহ আমান বলেন, “কেন্দ্রঘোষিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে আমরা এসেছি। আমরা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করবো এবং আবরাবের বাড়িতে যাবো। তার বাবা-মার সাথে কথা বলবো। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেখানে যেতে না দিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে, সংবিধানকে অমান্য করা হচ্ছে।”

এসময় ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপির উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন সোহবার উদ্দিন।

এসময় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) আল বেরুনি, ভেড়ামারা থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল আলীম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ৯ অক্টোবর নিহত আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং আবরারের কবর জিয়ারত করতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আসেন বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। ফাহাদের গ্রামের বাড়িতে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরে পুলিশের সহায়তায় দ্রুত স্থান ত্যাগ করে ঢাকায় ফিরে যান।

উল্লেখ্য, সম্পাদিত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত ৬ অক্টোবর (রোববার) রাত ৩টার দিকে খুন হন বাংলাদেশ প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (০৫ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবরার। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এই ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমবি