প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোন্দলমুক্ত থাকতে পারেনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। প্রায় সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে শক্তির মহড়া দেখাতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। দলীয় কোন্দলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক। তার ব্যতিক্রম হয়নি এবারের দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতেও।
সোমবার (৪ জানুয়ারি ২০১৬) দুপুর সোয়া একটায় চট্টগ্রাম নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ও ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রলীগের ৬৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে কেক কাটে ছাত্রলীগ। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা র্যালি নিয়ে প্রেস ক্লাব, চেরাগী পাহাড় হয়ে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যায়। তাদের সাথে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আতশবাজি পোড়ায়। এ সময় এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সংঘর্ষ চলে প্রায়েএক ঘণ্টা। এতে সিনেমা প্যালেস, আন্দরকিল্লা, নন্দকানন, তিন পুলের মাথা, নিউ মার্কেট ও লালদিঘী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আশপাশের দোকানি ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত করে।
উভয়পক্ষে সংঘর্ষ চলাকালে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করেছে তারা। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও আশে-পাশে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেলা ২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উভয় গ্রুপের সমর্থকরা মহড়া দিতে থাকে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ও ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের জুনিয়র ও সিনিয়র কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কেবি





