জঙ্গীবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যে বিএনপিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে মেনে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

শনিবার বিকেল ৫টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে “সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠন” উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

কামরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সকল দল বঙ্গবন্ধুকে নেতা মেনে নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। আর বর্তমান জঙ্গীবাদ নির্মুলে আমাদের নেতা হচ্ছে শেখ হাসিনা। তার নির্দেশ মেনে নিয়ে জঙ্গীবাদ নির্মুলে সকল দলকে ঐক্যের পথে আসতে হবে। বিএনপি যদি ঐক্যে আসে, যদি জঙ্গীবাদ বিরোধী কর্মসূচি পালন করতে চায়, অবশ্যই শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মেনে আসতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ছাড়বে ছাড়বে ভাব। হয়ত বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ছাড়বে। বিএনপির অভ্যন্তর থেকেও এ দাবি উঠে এসেছে।

হয়ত দেখবেন দুই চার এমসপ্তাহের মধ্যে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করেছে। শুধু জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করলে হবে না আপনাদের(বিএনপি) অতীতের সন্ত্রাসী ইতিহাস ত্যাগ করতে হবে।

বিএনপিকে বলব, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ুন আমরা আপনাদের ধন্যবাদ জানাবো। জঙ্গীবাদ বিরোধী আন্দোলনে স্বাগত জানাব। জঙ্গীবাদ ইস্যুতে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।

গুলশান হামলার ঘটনা জঙ্গীবাদের নতুন মাত্রা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতোদিন আমরা দেখেছি ইমামবারায় হামলা, পুরোহীত-খাদেম হত্যার মত বিক্ষিপ্ত হমলার ঘটনা। কিন্তু গুলশান ও কিশোরগঞ্জে হামলার মাধ্যমে জঙ্গীবাদের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

আমরা বার বার বলেছি, এখনও বলছি হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি, জামায়াত তারাই বাংলাদেশে এসব তৎপরতা চালাচ্ছে। বিশেষ স্বার্থে সরকারকে নজুক পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য তারা এসব জঙ্গীবাদী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।

এটা শেখ হাসিনার ইমেজকে নষ্ঠ করার জন্য, উন্নয়নকে থামিয়ে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র। আমাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার জন্যে দীর্ঘ দিন ধরে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

বর্তমান জঙ্গী হামলার ঘটনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনায় পশ্চিমারা আইএসের ধূয়া তোলছে।

গুলশানে হামলার পর পশ্চিমা বিশ্ব আবার আইএসের ধূয়া তোলে সহযোগীতার নামে ছুটে আসতে শুরু করেছে।

আমরা তাদের বলতে চাই বিশ্বায়নের যুগে সহযোগীতা অবশ্যই নেব। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এমন সহযোগীতা আপনাদের কাছ থেকে গ্রহন করবে না। শেখ হাসিনা যেখানে আছে সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন হতে দিবে না।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

ই আর/এসএম